এদিকে ঘটনার প্রতিবাদে এবং সভাপতির অপসারণ দাবিতে সোমবার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস বর্জন করেছে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। হয়েছে মানববন্ধনও।
ওই স্কুলের একাধিক শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কয়েকদিন ধরেই বিদ্যালয়ের তহবিল থেকে দেড় লাখ টাকা ধার চাচ্ছিলেন আতাউজ্জামান রঞ্জু। কিন্তু প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম টাকা দিতে রাজি হননি। এ নিয়ে রবিবার ম্যানেজিং কমিটির সভা ডাকা হয়। সভার একপর্যায়ে ৫০ হাজার টাকা ধার দেওয়ার বিষয়ে সবাই একমত হন। কিন্তু বিষয়টি মেনে নিতে পারেননি আতাউজ্জামান। তিনি উত্তেজিত হয়ে রেজুলেশন বইয়ের কয়েকটি পাতা ছিঁড়ে ফেলেন। এরপর নিজের পায়ের জুতা খুলে উপস্থিত সবার সামনেই প্রধান শিক্ষককে পেটাতে থাকেন। গালিগালাজ করেন। হুমকিও দেন।
সভায় উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক আরজুফা ইয়াসমীন মিনু। তিনি বলেন, ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার কথা বলায় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি জুতা খুলে প্রধান শিক্ষককে পেটাতে থাকেন।
প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, 'স্কুলের তহবিল থেকে দেড় লাখ টাকা ধার দিতে কয়েকদিন ধরে চাপ দিচ্ছিলেন সভাপতি রঞ্জু। আমি তার কথায় রাজি না হয়ে কমিটির সভা ডাকতে বলি। সেখানে তিনি আমাকে মারধর করেন।' এখনও নানাভাবে সভাপতি হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেন প্রধান শিক্ষক।
আতাউজ্জামান রঞ্জু অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘স্কুলের হিসাব-নিকাশ নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়েছে মাত্র।’
কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) শাহীনুর আলম বলেন, ‘বিষয়টি জানার পর প্রধান শিক্ষককে আইনের আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ঘটনা তদন্ত করতে বলা হয়েছে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে।’
/এআরএল/
আরও পড়ুন:
ভারতীয় বিশেষজ্ঞদের অভিমত: সেদেশে অরণ্যের এত কাছে কিছুতেই অনুমতি পেতো না রামপালের মতো প্রকল্প