জয়পুরহাটের বিভিন্ন বাজারে একমাস আগেও যে মোটা চালের প্রতি কেজির দাম ছিল ২৪ থেকে ২৫ টাকা, একমাস পর সেই চালই এখন বিক্রি হচ্ছে ৩০-৩২ টাকা। সেই সঙ্গে বেড়েছে চিকন জাতের চালের দামও। অসময়ে সরকারি খাদ্য গুদামের চাল সংগ্রহের কারণেই বাজারের এই উর্দ্ধগতি বলে দাবি জেলার চালকল মালিকদের।
জেলা খাদ্যবিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জয়পুরহাট জেলায় চালকল মালিকদের কাছ থেকে এবার সরকারিভাবে চাল কেনার বরাদ্দ নির্ধারিত হয় ৯ হাজার ১৬৬ মেট্রিক টন। আর ধানের বরাদ্দ মেলে ১৪ হাজার ৭০ মেট্রিক টন। কিন্তু এবারই প্রথম সরকার চালের আগে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহের ঘোষণা দেয়।
খাদ্য বিভাগ গত ২৫ জুলাইয়ের মধ্যেই কৃষকের কাছ থেকে বরাদ্দকৃত ধান ক্রয় শেষ করে। বাজারের তুলনায় সরকারের বেঁধে দেওয়া ধানের দাম বেশি থাকায় সহজেই নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই ধান সংগ্রহের অভিযান শেষ হয়। একই সময়ে চাল সংগ্রহের সময়সীমা থাকলেও এবারই প্রথম আগস্ট মাস থেকে জেলায় শুরু হয় চাল সংগ্রহ অভিযান। আর মিল মালিকদের চাহিদার কারণে বাজারে বাড়তে থাকে চাল ও ধানের দাম। একমাস আগেও মোটা জাতের ধান বাজারে বিক্রি হয়েছে ৬৭০ থেকে সর্বোচ্চ ৭০০ টাকা দরে। সেই ধান এখন বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ৮২০ টাকা মণ দরে।
জানা গেছে, আগস্ট মাসের শুরুতে বরাদ্দ পাওয়া চাল পরিশোধে জেলার ৫২০ জন মিল মালিক সরকারের সঙ্গে চুক্তি সম্পাদন করেন। গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত চাল সংগ্রহ হয়েছে ৬৫৮ মেট্রিক টন। চাল সংগ্রহ চলবে আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। আগের বরাদ্দের চাল পরিশোধ না হতেই এ জেলার জন্য আরও ৬ হাজার ৪৬ মেট্রিক টন চাল কেনার জন্য অতিরিক্ত বরাদ্দ এসেছে।
মিল মালিকরা বলছেন, চালের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে সাধারণ বরাদ্দের চাল পরিশোধ করতেই তাদের লোকসান হচ্ছে। সেখানে অতিরিক্ত চালের বরাদ্দ কোনও মিল মালিকের পক্ষেই নেওয়া সম্ভব নয়।
ক্ষেতলাল উপজেলার ইটাখোলা বাজারের চাল ব্যবসায়ী ইমার হোসেন জানান, মোটা জাতের চাল কিছুদিন আগেও বিক্রি হয়েছে ২৫ টাকা কেজি দরে। এখন সেই চাল বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৩২ টাকা কেজিতে। সেই অনুপাতে ধানের দামও মণ প্রতি একশ থেকে দেড়’শ টাকা বেড়ে গেছে।
কালাই থানা চালকল মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুল আজিজ বলেন, সাধারণত চাল সংগ্রহের সময়কাল মে থেকে জুন মাসের মধ্যে হয়। কিন্তু এবার সরকার চাল কিনছেন আগস্ট মাসে। কোনও কৃষকের ঘরে এখন ধান নেই। অসময়ে চাল কেনার কারণে মিল মালিকরা লোকসানের মুখে পড়েছেন।
জেলা খাদ্য ইকবাল বাহার চৌধুরী বলেন, সরকারি নীতিমালা মেনে জেলায় চাল সংগ্রহ অভিযান শুরু হয়েছে। মৌসুমের শুরুতে এবার ধান সংগ্রহ নিয়ে ব্যস্ততার কারণে চাল সংগ্রহে কিছুটা বিলম্ব হয়। মিলারদের কাছ থেকে চাল কেনার কারণে বাজারে এর কিছুটা প্রভাব পড়েছে। সে কারণেই বাজারে ধান-চালের দামও বেড়ে গেছে।
/এমও/