গাইবান্ধার প্রায় সব গ্রামে এখন অনেক কৃষক পরিবার বাড়িতে গরু পালন করেন। তাই, শহরবাসী ও গ্রামের অনেকেই পশুর হাটের ভিড়ভাট্টায় না গিয়ে ব্যক্তিগত যোগাযোগের মাধ্যমে গ্রামের এসব বাড়িতে গিয়ে গরু কিনছেন।
এ রকম ৪/৫ জন গরু পালনকারী ও ৭/৮ জন ক্রেতার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কোরবানির ঈদ সামনে রেখে নিম্ন আয়ের মানুষেরা একটু বাড়তি আয়ের আশায় ঈদের কয়েক মাস আগে গরু পালা শুরু করেন। প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই দেখা যায় দুই/তিনটি করে গরু। এগুলোর মধ্যে ৩০ হাজার থেকে শুরু করে ১ লাখ টাকা দামের গরুও আছে। খণ্ডকালীণ এসব খামারিদের বাড়িতে এখন কিনতে আগ্রহীরা বাড়ি বাড়ি ঘুরে খুঁজে দেখছেন বাজেটের মধ্যে পছন্দের গরু।
গাইবান্ধা সদর উপজেলার বল্লমঝাড় ইউনিয়নের তালুক মন্দুয়ার আজম মিয়া বলেন, ‘বিগত ৪ বছর ধরে বাড়তি আয়ের পথ হিসেবে শুধু কোরবানি ঈদে বিক্রির জন্য গরু পালি। এবারও ১টি গরু ছিল। গত বৃহস্পতিবার বাড়ি থেকে ৫৬ হাজার টাকায় গরুটি বিক্রি করেছি।’
একই গ্রামের আমির হোসেন বলেন, ‘আমাদের গ্রামের বেশির ভাগ মানুষ বাড়িতে গরু পালেন। কোরবানির ঈদে এগুলো বিক্রি হয়। এরই মধ্যে আমার দুটি গরু বাড়ি থেকে বিক্রি হয়ে গেছে।’
সাদুল্লাহপুর উপজেলার শহর থেকে তালুক মন্দুয়ার গ্রামে আসা গরুর ক্রেতা নুরুননবী আকন্দ বলেন, ‘শহরে গরু রাখাটা সমস্যা। তাই, হাটের ভিড়ে না গিয়ে গ্রামে গরু কিনে তাদের কাছেই তা রেখে দেওয়ার সুবিধাটা পাচ্ছি। ঈদের দিন সকালে বা আগের দিন এসে নিয়ে যাবো। অপরদিকে, বিক্রেতা আগে থেকেই পরিচিত হওয়ায় স্টেরয়েডের মাধ্যমে মোটাতাজা করা ছাড়াই সুস্থ্ কোরবানির পশু পাচ্ছি।
গাইবান্ধা শহরের পশ্চিমপাড়ার কলেজ শিক্ষক শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘ঘুরে দেখেন, জেলার অধিকাংশ হাটেই সরকার নির্ধারিত টোল চার্ট লাগানো নেই। ঈদ-উল আজহাকে সামনে রেখে হাট ইজারাদাররা সরকার নির্ধারিত টোলের চেয়ে তিন/চারগুণ বেশি টোল ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ের কাছ থেকে আদায় করছেন। প্রতিরোধের কোনও ব্যবস্থা নেই। তাই এ বছর কোরবানির পশুর হাটের পাশাপাশি কৃষকের বাড়িতে বাড়িতে পালিত গরু বেচাকেনাও অনেকটাই জমে উঠেছে।’
গাইবান্ধা শহরের বিশিষ্ট সমাজ সেবক জিয়াউল হক জনি বলেন, ‘পছন্দমতো গরু কেনার জন্য হাট থেকে হাটে ছুটতে হয়। চাহিদা ও বাজেট অনুসারে গরু মিলবে কিনা, তা নিয়েও চিন্তা থাকে। গ্রাম থেকে গরু কিনলে এ ধরনের কোনও চিন্তা করতে হয় না। বিক্রেতারাও পরিচিত। কী খাওয়াচ্ছেন গরুকে, তাও ক্রেতা জানতে পারেন।’
সাদুল্লাহপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহসান হাবিব জানান, হাটগুলোতে অতিরিক্ত টোল আদায়ের বিষয়ে ইতোমধ্যে একাধিক অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি শনিবার থেকে নিয়মিত মনিটরিং করা হবে।
/এবি/
আরও পড়ুন