মেশিন রিডেবল স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র (স্মার্ট কার্ড) পেলেন ফুলবাড়ীর বিলুপ্ত ছিটমহল দাশিয়ারছড়ার অধিবাসীরা। সোমবার বেলা ১১টা ৫৬ মিনিটে সদ্য প্রতিষ্ঠিত দাশিয়ারছড়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এ কর্মসূচি উদ্বোধন করা হয়।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ এই কর্মসূচি উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে ফুলবাড়ী উপজেলার ভাঙ্গামোড় ইউনিয়নভুক্ত দাশিয়ারছড়ার ছোট কামাত’র পূর্ব-দক্ষিণ অংশের অধিবাসী ইব্রাহীম খাঁ’র হাতে কার্ড তুলে দেওয়া হয়। এরপর দাশিয়ারছড়ার ২০ জন নারী-পুরুষের হাতে তুলে দেওয়া হয় স্মার্ট কার্ড।
দাশিয়ারছড়ার ছোট কামাত এলাকার মুসলিম উদ্দিন শেখ (৮৪)বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আগে আমাদের পরিচয় ছিল না, এখন পরিচয় দিতে পারছি। আমরা প্রধানমন্ত্রীর জন্য দোয়া করি, আল্লাহ যেন তার ভাল করে।’
বিলুপ্ত ছিটমহলবাসীদের স্মার্ট কার্ড প্রাপ্তির ব্যাপারে বাংলাদেশ-ভারত ছিটমহল বিনিময় সমন্বয় কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও দাশিয়ারছড়ার অধিবাসী গোলাম মোস্তফা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা, বিলুপ্ত ছিটমহলের অধিবাসীরা, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে চিরকৃতজ্ঞ। তিনি আমাদের দেশ দিয়েছেন, দিয়েছেন নাগরিকত্ব। আমাদের শান্তিপূর্ণ অহিংস আন্দোলনের আজ চূড়ান্ত প্রাপ্তির দিন। ৬৮ বছরের অবরুদ্ধ জীবন শেষে আমরা বাংলাদেশের নাগরিক হয়েছি। আজ তা পূর্ণতা পেল।’
২৬ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী সারাদেশে বাদপড়া ইউনিয়নগুলোর নির্বাচন আগামী ৩১ অক্টোবর সোমবার অনুষ্ঠিত হবে। ওইদিন কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার বিলুপ্ত ছিটমহল দাশিয়ারছড়াসহ কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার ১০টি বিলুপ্ত ছিটমহলের অধিবাসীরা প্রথমবারের মত তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন বলে জানা যায়।
জেলা নির্বাচন অফিস সূত্র জানান, দাশিয়ারছড়ায় মোট ভোটার সংখ্যা ২ হাজার ৫৬২ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ১ হাজার ৩০৬ এবং পুরুষ ভোটার ১ হাজার ২৫৬ জন। সোমবার উদ্বোধনী দিনে ফুলবাড়ী উপজেলার ভাঙ্গামোড় ইউনিয়নের ৯৮৫ জন ভোটারের মধ্যে স্মার্ট কার্ড বিতরণ করা হয়।এর মধ্যে বিলুপ্ত ছিটমহল দাশিয়ারছড়ার ২১৯ জন ভোটার এই কার্ড পাবেন।
অন্যদিকে, ভূরুঙ্গামারী উপজেলার বিলুপ্ত ১০টি ছিটমহলে মোট ভোটার সংখ্যা ১৯১ জন। এদের মধ্যে নারী ভোটার ৯৪ এবং পুরুষ ভোটার ৯৭ জন। তবে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার হলোখানা ইউনিয়নভুক্ত বিলুপ্ত ছিটমহল ডাকুয়ার হাট ডাকিনির কুঠিতে কোনও জনবসতি নেই।
২০১৫ সালের ১ আগস্ট থেকে স্থলসীমান্ত চুক্তি কার্যকর হওয়ায় বিলুপ্ত হয়ে গেছে ছিটমহল। এর ফলে ১৭ হাজার ১৬০ দশমিক ৬৩ একর আয়তনের ১১১টি ছিটমহল বাংলাদেশের মূল ভূখণ্ডে অন্তর্ভুক্ত হয়। এগুলোর মধ্যে কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ী, সদর (লোকালয় হীন) ও ভুরুঙ্গামারী উপজেলায় ১ হাজার ৮৮০ দশমিক ৪৪ একর আয়তনের মোট ১২টি ছিটমহল অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
চলতি বছরের ১১ এপ্রিল প্রকাশিত বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বহিরাগমন অধিশাখা-৩ এর প্রকাশিত প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী বাংলাদেশের অভ্যন্তরের বিলুপ্ত ১১১টি ছিটমহলের ৩৭ হাজার ৫৩৫ জন অধিবাসী বাংলাদেশি নাগরিকত্ব পেয়েছেন। এর মধ্যে কুড়িগ্রাম জেলায় অন্তর্ভুক্ত ১২টি ছিটমহলের ৭ হাজার ৭৪৭ জন বাংলাদেশি নাগরিকত্ব পেয়েছেন। এর মধ্যে ভুরুঙ্গামারী উপজেলায় অন্তর্ভুক্ত ১০টি ছিটমহলের ১ হাজার ২১৮ জন এবং ফুলবাড়ী উপজেলার অন্তর্ভুক্ত দাশিয়ারছড়া ছিটমহলের ৬ হাজার ৫২৯ জনকে বাংলাদেশি নাগরিকত্ব দেওয়া হয়েছে।
ছিটমহল বিনিময়ের এক বছরের মধ্যে ৪ সেপ্টেম্বর বিলুপ্ত ছিটের সাড়ে দশ হাজারেরও ভোটারযোগ্য নাগরিককে ভোটার করে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন।
স্মার্ট কার্ড বিতরণের এ অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো.মোখলেসুর রহমান সভাপতিত্ব করেন। এতে নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মোবারক, নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ আবু হাফিজ, নির্বাচন কমিশনার মো.শাহ নেওয়াজ, মহাপরিচালক ব্রিগ্রেডিয়ার জেনারেল সুলতান মো.সালেহ উদ্দিন ও নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক খান মো. নুরুল আমিন এবং কুড়িগ্রাম পুলিশ সুপার মো.তবারক উল্লাহ উপস্থিত ছিলেন।
/এমডিপি/এইচকে/