মোর্শেদার বাবার নাম মো. আব্দুর রহমান। তার বাড়ি রাজারহাট উপজেলার চাকিরপশা ইউনিয়নের হাজী পাড়া গ্রামে।
মোর্শেদার বাবা আব্দুর রহমান জানান, কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার বেলগাছা ইউনিয়নের নাজিরা ফকিরপাড়া এলাকার মো.সোহেল মিয়ার (৩২) সঙ্গে সাত বছর আগে বিয়ে হয় মোর্শেদার। সোহেল চট্টগ্রাম বিএমএ-তে কুক পদে চাকরি করে। বিয়ের এক বছর যেতে না যেতেই মোর্শেদার ওপর স্বামী সোহেলসহ পরিবারের সদস্যরা নির্যাতন শুরু করে।
গত শনিবার (৮ অক্টোবর)সোহেলের বড় ভাই আতার নেতৃত্বে দুই বোন এবং মা মিলে তার মেয়ে মোর্শেদাকে বেদম প্রহার করলে সে বাড়ি থেকে বের হয়ে চট্টগ্রামে তার স্বামী সোহেলের কাছে যায়। সেখানে কর্মরত সোহেল মোর্শেদাকে অনুরোধ করে আবার বাড়িতে পাঠায়। গত সোমবার (১০ অক্টোবর) দুপুরের আগে মোর্শেদা বাড়িতে পৌঁছালে আবারও সোহেলের বড় ভাই আতা ও পরিবারের সদস্যরা তাকে মারধর করে। এরপর বিকাল বিকাল ৩টার দিকে মোর্শেদার মা মল্লিকা বেগম ফোন দিলে সে জানায়,‘মা ওরা আমাকে মনে হয় মেরে ফেলবে।’ এরপর ওইদিন সন্ধ্যায় স্বামী সোহেল মোবাইল ফোনে তাকে জানায়, মোর্শেদা হাসপাতালে মারা গেছে। পরে তিনি লোকজন নিয়ে দ্রুত কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে এসে রাত ৮টার দিকে মোর্শেদার লাশ শনাক্ত করে।
কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়,সোমবার সন্ধ্যার দিকে কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালের ইমারজেন্সিতে যারা মোর্শেদাকে নিয়ে আসে তারা দায়িত্বরত চিকিৎসককে জানায়,সে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিল।
সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক (ভারপ্রাপ্ত) ডাক্তার শাহিনুর রহমান শিপন জানান, সোমবার সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটে মোর্শেদাকে ইমারজেন্সিতে আনলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান।
এ ব্যাপারে কুড়িগ্রাম সদর থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুস সোবহান জানান, নিহতের পরিবার থেকে কেউ এখনও অভিযোগ করেনি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে জেনে থানায় একটি ইউডি মামলা হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
/এআর/