অস্থায়ী নিয়োগের পরিবর্তে স্থায়ীভ নিয়োগ পাওয়ার দাবিতে আন্দোলনে নামার ঘোষণা দিয়েছে। দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি শ্রমিকরা। বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির প্রশাসনিক দক্ষিণ গেটের সামনে বর্ধিত সভায় এমনই ঘোষণা দেন তারা। শ্রমিক নেতারা জানান, ২০১৭ সালে নতুন করে খনির শ্রমিকদের সঙ্গে চুক্তি হবে। ওই চুক্তিতে স্থায়ীভাবে তাদের কাজ দেওয়ার দাবিতে আগাম প্রস্তুতি গ্রহণ করা হচ্ছে।
খনির শ্রমিকেরা অভিযোগ করে বলেন, খনিতে যারা স্থায়ীভাবে কাজ করেন তাদের একজন ঝাড়ুদারের বেতন ৩০ হাজার টাকা। অথচ যে শ্রমিকরা কয়লা উত্তোলন করেন, তারা মাস শেষে বেতন তোলেন ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা। এতে তাদের পরিবার অচল হয়ে পড়েছে। তাই তাদের কাজকে সম্মান জানিয়ে নিয়োগ স্থায়ী করার দাবিতে কঠোর আন্দোলনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অনুষ্ঠিত ওই বর্ধিত সভায় খনির শ্রমিক কর্মচারি ইউনিয়নের সভাপতি রবিউল ইসলামের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন খনির শ্রমিক কর্মচারি ইউনিয়নের উপদেষ্টা ও পার্বতীপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হাফিজুল হক প্রামাণিক। এতে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন খনি শ্রমিক কর্মচারি ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি ওয়াজেদ আলী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক নূর ইসলাম, বর্তমান সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান, সাংগাঠনিক সম্পাদক এহসানুল হক সোহাগ, সাবেক সাংগাঠনিক সম্পাদক লিটনসহ বিভিন্ন শ্রমিক নেতারা ।
বড়পুকুরিয়া খনি শ্রমিক কর্মচারি ইউনিয়নের সভাপতি রবিউল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, প্রতিদিনই ২৯৭ টাকা মজুরিতে ভূগর্ভের নিচে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছে খনির শ্রমিকেরা। যেদিন কাজ সেদিন বেতন। কাজে না আসলে বেতন নাই। তাদের কোনও ছুটিও নাই। ভূগর্ভের নিচে কঠিন তাপমাত্রায় মাসে ১৫ দিনের বেশি কাজ করতে পারে না শ্রমিকেরা। তাই ১৫ দিনের বেতন দিয়ে সারামাস তাদের সংসারও চলছে না।
পৃথিবীর কোথাও খনির শ্রমিকেরা দিন হাজিরায় খনিতে কাজ করে না। অথচ বড়পুকুরিয়ার কয়লাখনিতে দীর্ঘ ১২ বছর থেকে এভাবেই অমানুষিক শ্রম দিয়ে যাচ্ছে খনির শ্রমিকেরা। আগামী ২০১৭ সালে এই খনির কাজের জন্য নতুন করে শ্রমিক নিয়োগের চুক্তি করা হবে। ওই চুক্তিতে তাদের নিয়োগ যেন স্থায়ী হয় এজন্য আগাম প্রস্তুতি হিসেবে তাদের এই কর্মসূচি।
খনির শ্রমিক কর্মচারি ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি ওয়াজেদ আলী জানান, তারা বিভিন্ন সময়ে তাদের কাজ স্থায়ী করার দাবি জানিয়ে আসছেন। কিন্তু তাদের এই দাবি মেনে নেওয়া হচ্ছে না, তাই কঠোর আন্দোলন করা ছাড়া আর কোনও উপায় নাই।
বর্ধিত সভা শেষে কয়লাখনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক জ্বালানি ও খনিজ মন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রী বরাবর আগামি এক মাসের মধ্যে কাজ স্থায়ী করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার দাবিতে স্মারকলিপি প্রদানের সিদ্ধান্ত হয়। এর মধ্যে সিদ্ধান্ত গৃহিত না হলে তারা আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করবেন।
/এইচকে/