সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান জানান, শনিবার দিনগত রাত আড়াইটার দিকে রংপুর সদর উপজেলার চন্দনপাট ইউনিয়নের শাহাবাজপুর এলাকায় একটি আস্তানায় অভিযান চালিয়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জেএমবির চার সদস্যকে আটক করে পুলিশ। এসময় তাদের কাছ থেকে দেশীয় পিস্তল, দুইটি চাপাতি, একটি চাইনিজ কুড়াল ও তিনটি বোমাসহ বিভিন্ন অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
আটককৃত জঙ্গিরা হলেন, পীরগাছা উপজেলার দুর্গাচরণ গ্রামের বেলাল হোসেন (৪৬), একই উপজেলার পশুয়া টাঙ্গাইল পাড়া গ্রামের এরশাদ আলম (২৮) ও আশরাফুল ইসলাম (২৩) এবং পশুয়া খাঁপাড়া গ্রামের আল-আমিন (২০)।
পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান জানান, রংপুরের শাহাবাজপুর এলাকা থেকে আটক জেএমবির চার সদস্যদের মধ্যে বেলাল হোসেন রংপুরের কাউনিয়ায় জাপানি নাগরিক ওসি কুনিও হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী সাদ্দামের শিক্ষা গুরু। সাদ্দাম মূলত বেলালের হাত ধরেই জেএমবিতে জঙ্গি যোগ দেয়।
তিনি জানান, এই বেলাল হোসেন ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত ছাত্র শিবিরের নেতা ছিলো। ১৯৯৫ সাল থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত সে জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলো। ২০১৪ সালে সে জেএমবিতে যোগদান করে। গতবছর রংপুরে জাপানি নাগরিক কুনিও হোশি ও মাজারের খাদেম রহমত আলীকে হত্যার পর কিলিং মিশনের প্রধান মাসুদ রানাসহ ৪ জঙ্গি পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়। তারা ওই দুই হত্যার সঙ্গে জড়িত ছিলো এবং হত্যাকাণ্ডে অংশ নেওয়ার কথা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি দেয়। এরপর রংপুর অঞ্চলে জেএমবির তৎপরতা কিছুটা স্তিমিত হয়ে যায়। ওই ঘটনার পর থেকে জঙ্গি বেলাল হোসেনকে রংপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে গ্রেফতার করার জন্য অভিযান চালানো হলেও তাকে গ্রেফতার করা যায়নি। ওই সময় সে টাঙ্গাইলের কালিয়াকৈরে একটি মসজিদে ইমামতি করে সেখানেই গা ঢাকা দিয়ে থাকতো। চলতি বছরের মাঝামাঝি আবারও বেলাল রংপুরে ফিরে আসে এবং জেএমবিকে আবারও সংগঠিত করার জন্য লোকবল সংগ্রহ শুরু করে। বেলালের সঙ্গে গ্রেফতার হওয়া অপর তিন সহযোগীর মধ্যে এরশাদ হোসেন ২০১৩ সাল পর্যন্ত ছাত্র শিবিরের রাজনীতি করতো। ২০১৪ সালে সেও জেএমবিতে যোগ দেয়। এছাড়া আটক আশরাফুল ও আলআমিনও জেএমবির সদস্য। তারা রংপুরে বড় ধরনের অপারেশন করার পরিকল্পনা করছিলো।
পুলিশ সুপার আরও জানান, আটক জঙ্গিদের বিরুদ্ধে অস্ত্র , বিস্ফোরক ও সন্ত্রাস দমন আইনে তিনটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হবে।
অভিযান পরিচালনার সময় গ্রেফতার হওয়া ৪ জন ছাড়াও আরও ৫ /৬ জন জঙ্গি ছিলো তাদের গ্রেফতার করার চেষ্টা চলছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
/এমডিপি/