এর আগে রবিবার রাতে সংঘর্ষের ঘটনায় গুলিবিদ্ধ সাঁওতাল শ্যামল হেমভ্রম (৩৫) দিনাজপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে মারা যান। এনিয়ে পুলিশ ও সাঁওতালদের সংঘর্ষে দুই সাঁওতাল মারা গেছে।
গোবিন্দগঞ্জ থানার ওসি সুব্রত কুমার সরকার এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, লাশের পরিচয় এখনও পাওয়া যায়নি। এছাড়া মরদেহে কোনও আঘাতের চিহ্ন ছিল না। তাই ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত তার মৃত্যুর কারণ বলা যাচ্ছে না।
ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন ওসি সুব্রত কুমার সরকার।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাতে স্থানীয় জনগন সাহেবগঞ্জ এলাকার ধান ক্ষেতে লাশ পড়ে থাকতে দেখে থানায় খবর দেয়। পরে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাইবান্ধা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
এ প্রসঙ্গে সাহেবগঞ্জ-বাগদাফার্ম ইক্ষু খামার জমি উদ্ধার সংহতি কমিটির সহ-সভাপতি ফিলিমন বাস্কে বলেন, ‘পুলিশের ছোড়া গুলিতে আমাদের মোট চারজন গুলিবিদ্ধ হয়। এছাড়া আরও চার থেকে পাঁচজনকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। আমাদের ধারণা, তাদের গুম করা হয়েছে।’
প্রসঙ্গত, ৬ নভেম্বর রবিবার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার রংপুর চিনিকলের জমিতে আখ কাটাকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও চিনিকল শ্রমিক কর্মচারিদের সঙ্গে ক্ষুদ্র নৃ গোষ্ঠি সাঁওতালদের সংঘর্ষে পুলিশসহ উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হয়। আহতদের মধ্যে তীরবিদ্ধ হয়েছেন ৯ জন পুলিশ সদস্য এবং গুলিবিদ্ধ হন ৪ জন সাঁওতাল। এই ঘটনায় গোবিন্দগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক কল্যান চক্রবর্তী বাদি হয়ে রবিবার রাতে ৩৮ জনের নাম উল্লেখ করে সাড়ে ৩শ জনকে আসামি দেখিয়ে মামলা দায়ের করেন।
/এমডিপি/