এর আগে রবিবার রাতে ওই সংঘর্ষের ঘটনায় গুলিবিদ্ধ সাঁওতাল শ্যামল হেমভ্রমকে (৩৫) দিনাজপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। এদিকে, এ ঘটনায় মঙ্গলবার পর্যন্ত পুলিশ চারজন সাঁওতালকে গ্রেফতার করেছে।
গোবিন্দগঞ্জ থানার ওসি সুব্রত কুমার সরকার জানান, রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন গুলিবিদ্ধ দীজেন টুটু, চরণ সরেন ও বিমল কিশকুকে সোমবার এবং গোবিন্দগঞ্জ থেকে মাঝিয়া হেমভ্রমকে মঙ্গলবার গ্রেফতার করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, সোমবার রাতে উদ্ধার হওয়া লাশ ময়নাতদন্তের জন্য গাইবান্ধা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। মরদেহে কোনও আঘাতের চিহ্ন ছিল না। তাই ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর কারণ বলা যাচ্ছে না। ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে সাহেবগঞ্জ-বাগদাফার্ম ইক্ষু খামার জমি উদ্ধার সংহতি কমিটির সহ-সভাপতি ফিলিমন বাস্কে মুঠোফোনে বলেন, পুলিশের ছোড়া গুলিতে আমাদের মোট চারজন গুলিবিদ্ধ হয়। এছাড়া আরও চার থেকে পাঁচজনকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তাদেরকে গুম করা হতে পারে বলে আমরা আশঙ্কা করছি।
তিনি দাবি করেন, রবিবার উচ্ছেদ অভিযানের সময় পুলিশের উপস্থিতিতে ওই এলাকায় বসবাসকারী সাঁওতালদের অস্থায়ী ঘরগুলো সাধারণ লোকজন আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়।
মঙ্গলবার সরেজমিন সাহেবগঞ্জ ইক্ষু খামার এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, উচ্ছেদকৃত ওইসব এলাকায় পুলিশি পাহারায় আখ চাষের জন্য কলের লাঙ্গল দিয়ে জমি চাষ ও অন্যান্য কার্যক্রম শুরু করেছে চিনিকল কর্তৃপক্ষ।
প্রসঙ্গত, রবিবার (৬ অক্টোবর) গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার রংপুর চিনিকলের জমিতে আখ কাটাকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও চিনিকল শ্রমিক কর্মচারীদের সঙ্গে সাঁওতালদের সংঘর্ষে পুলিশসহ উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হয়। আহতদের মধ্যে তীরবিদ্ধ হন ৯ পুলিশ সদস্য এবং গুলিবিদ্ধ হন চারজন সাঁওতাল। এ ঘটনায় গোবিন্দগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক কল্যাণ চক্রবর্তী বাদী হয়ে রবিবার রাতে ৩৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত সাড়ে ৩শ জনকে আসামি দেখিয়ে মামলা করেন।
সাঁওতালদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ
আরও পড়ুন:
গাইবান্ধায় সাঁওতাল-পুলিশ সংঘর্ষ: আরও একটি লাশ উদ্ধার
রংপুর চিনিকলের জমি থেকে সাঁওতালদের উচ্ছেদ
/বিটি/