রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পুলিশের হাতে আটক হওয়া দুই সাঁওতাল গুলিবিদ্ধ বিমল কিসকো ও চরণ সরেনকে জামিন দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার বিকালে গোবিন্দগঞ্জ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এ এসএম তাসকিনুল হক শুনানি শেষে তাদের এই জামিনের আদেশ দেন।
বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন গাইবান্ধা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. আনিস মোস্তফা তোতন জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরে বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের পক্ষ থেকে তিনি, অ্যাড. মাযাহারুল ইসলাম এবং অ্যাড. শাসছুজ্জোহা শামীম তাদের জামিন আবেদন করেন। আদালত সন্তুষ্ট হয়ে তাদের স্থায়ী জামিন মঞ্জুর করেন।
জামিনপ্রাপ্ত বিমল কিসকু দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার কুচাপাড়ার সাকিলা কিসকুর ছেলে ও চরণ সরেন রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার লোহানীপাড়ার মৃত জঙ্গা সরেনের ছেলে।
এর আগে ৬ নভেম্বর গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার রংপুর চিনিকলের সাহেবগঞ্জ ইক্ষু খামারের জমিতে আখ কাটাকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও চিনিকল শ্রমিক কর্মচারীদের সঙ্গে সাঁওতালদের দফায় দফায় সংঘর্ষে চারজন সাঁওতাল গুলিবিদ্ধ হন। তাদের মধ্যে দিনাজপুর মেডিক্যাল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে রবিবার রাতেই চাপাইনবাবগঞ্জের গোমেস্বরপুরের বাসিন্দা শ্যামল হেমভ্রম (৩৫) মারা যান।
গোবিন্দগঞ্জের জয়পুরপাড়া গ্রামের দীজেন টুডু ঢাকায় চিকিৎসাধীন আছেন। এই দুজন রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। কিন্তু হাতকড়া খুলে দেওয়ার হাইকোর্টের আদেশের পর কোমরে দড়ি ও হাতকড়া পরানো নিয়ে লুকোচুরি করার অভিযোগ ওঠার একদিন পর গত মঙ্গলবার বিকালে তাদেরকে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে নিয়ে আসা হয়। পরে বিকাল ৫টায় গোবিন্দগঞ্জ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে বিচারক জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এ এস এম তাসকিনুল হক তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
গোবিন্দগঞ্জ থানার ওসি সুব্রত কুমার সরকার বলেন, কারাগারে থাকা দুই আসামি জামিনের সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। তাদের জামিন আদেশের কাগজ কারা কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হচ্ছে।
প্রসঙ্গত. গত ৬ নভেম্বর রংপুর চিনিকলের সাহেবগঞ্জ ইক্ষু খামারের জমিতে আখ কাটাকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও চিনিকল শ্রমিক কর্মচারীদের সঙ্গে সাঁওতালদের দফায় দফায় সংঘর্ষে পুলিশসহ উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে তীরবিদ্ধ হয়েছেন ৯ জন পুলিশ সদস্য এবং গুলিবিদ্ধ হন চারজন সাঁওতাল। এ ঘটনায় এ পর্যন্ত তিন সাঁওতাল মারা যান। পরবর্তীতে পুলিশ-র্যা ব ওই দিন সন্ধ্যা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত এক অভিযান চালিয়ে মিলের ওই জমি থেকে সাঁওতালদের উচ্ছেদ করেন। এসময় তাদের ঘরবাড়ি আগুন লুটপাট চালায় স্থানীয় দুর্বৃত্তরা।
ওই সংঘর্ষের ঘটনায় গোবিন্দগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক কল্যাণ চক্রবর্তী বাদী হয়ে রবিবার রাতে ৩৮ জনের নাম উল্লেখ করে ৩ থেকে ৪শ’ জনকে আসামি দেখিয়ে মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় তারা এজাহারভুক্ত আসামি। মামলায় এ পর্যন্ত পুলিশ চারজনকে গ্রেফতার করেছে।
আদিবাসি পরিষদের সভাপতি রবীন্দ্র সরেন জানান, ১৯৬২ সালে চিনিকল তাদের বাপ-দাদাদের জমি অধিগ্রহণ করার পর তারা এই এলাকা ছেড়ে চলে যান। পরবর্তীতে চিনিকল চুক্তিভঙ্গ করলে ওই জমি ফেরত পাবার আশায় এখানে বসবাস শুরু করেন।
/এআর/