হাকিমপুর উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি আমন মৌসুমে হাকিমপুর উপজেলায় আট হাজার একশ হেক্টর জমিতে আমন ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত ছিল। আবাদ হয়েছিল ৮ হাজার ১৮০ হেক্টর জমিতে। মৌসুমে আমন চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত ছিল ২২ হাজার ২১৬ মেট্রিক টন। উপজেলার ২০ জন চুক্তিবদ্ধ মিলারের কাছ থেকে প্রতি কেজি ৩৩ টাকা দরে ১৬৯ মেট্রিক টন চাল সরকারিভাবে সংগ্রহ করার কথা ছিল।
হিলি বাজারের বিভিন্ন ধানের আড়ত ঘুরে জানা যায়, মৌসুমের শুরুর দিকে প্রতিমণ ধান প্রকারভেদে ৮৪০ টাকা থেকে ৮৫০ টাকা দরে কেনাবেচা হয়। তবে বর্তমানে প্রতিমণ ধান প্রকারভেদে ৭৪০ টাকা থেকে ৭৫০ টাকা দরে কেনাবেচা হচ্ছে।
হিলি বাজারের কৃষক মাহমুদুল ইসলাম ও জাহাঙ্গির হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, চলতি আমন মৌসুমের শুরুর দিকেই বাজারে প্রতিমণ ধান প্রকারভেদে ৮০০ থেকে সাড়ে ৮০০ টাকা দরে কেনাকেচা হচ্ছিল। সেসময় গুটিকয়েক কৃষক মাঠ থেকে ধান কেটেছিল। এখন সব কৃষক ধান কেটে ঘরে তুলেছেন। এখন ধানের দাম কমে ৭০০ থেকে সাড়ে ৭০০ টাকা হয়েছে।
মাহমুদুল ইসলাম বলেন, ‘এমন অবস্থা প্রতিবারই হয়। যখন কৃষকের ঘরে ধান থাকে না তখন বাজারে ধানের দাম বেশি থাকে। এমনিতেই এখন খরচ বেড়ে যাওয়ায় কৃষকদের লাভ হয় কম। তবু মৌসুমের শুরুর দিকে ধানের যে দাম ছিল সে দাম পেলেও তারা কিছু লাভের মুখ দেখতে পেত।’
জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘আবহাওয়া ভালো থাকায় এ বছর মৌসুমে আমনের বাম্পার ফলন হয়েছে। এ কারণে বাজারে চাহিদার তুলনায় ধানের সরবরাহ বেশি ছিল। এ কারণেই স্থানীয় মিলার ও ফড়িয়ারা কারসাজি করে ধানের দাম নিয়ন্ত্রণ করছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘সরকার এবার ধান সংগ্রহ না করে শুধু চাল সংগ্রহ অভিযান চালাবে বলে জানিয়েছিল। কিন্তু এখনও চাল সংগ্রহ অভিযান শুরু না হওয়ায় স্থানীয় মিলাররা ধান কেনা বন্ধ রেখেছেন। এতে করে আমাদের কৃষকদের বাধ্য হয়ে কম দামে ধান বিক্রি করতে হচ্ছে, যার ফলে আমরা লোকশানের মুখে পড়ছি।’
হিলি বাজারের ধানের আড়ৎদাড় মো. আব্দুল মালেক জানান, আমরা স্থানীয় বাজার থেকে ধান কিনে দেশের বিভিন্ন স্থানের মিলারদের কাছে সরবরাহ করে থাকি। চলতি আমন মৌসুমের শুরুর দিকে দেশের বিভিন্ন স্থানের মিল মালিকরা ধান সংগ্রহের তাগিদ দেওয়ায় সেসময় বাজারে ধানের দাম ৮৪০ টাকা থেকে ৮৫০ টাকা মন দরে কেনাবেচা হয়েছিল। কিন্তু এখন মিল মালিকরা ধান সংগ্রহ অভিযান কমে দেওয়ার ফলে বাজারে ধানের দাম কমে গিয়েছে। বর্তমানে প্রকারভেদে প্রতিমন ধান ৭৪০টাকা থেকে ৭৫০ টাকা মন দরে কেনাবেচা হচ্ছে।
হিলি এলএসডি খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা মো. খলিলুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, চলতি আমন মৌসুমে সরকার কৃষকদের কাছ থেকে কোনও প্রকার আমন ধান সংগ্রহ করবে না। শুধুমাত্র চলতি মৌসুমে মিলারদের কাছ থেকে আমন চাল সংগ্রহের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। যা গত ১ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়ার কথা থাকলেও শুরু করা যায়নি। চলতি আমন মৌসুমে হাকিমপুর উপজেলার ২০ জন মিলারের কাছ থেকে ১৬৯ মেট্রিকটন চাল ৩৩ টাকা কেজি দরে সংগ্রহ করা হবে। ইতোমধ্যে উপজেলার মিলারদের সঙ্গে সরকারের চুক্তিবদ্ধ কার্যক্রম চলছে যা আগামী ২০ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে।
/টিআর/এআর/