গাইবান্ধায় অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট স্থগিত

গাইবান্ধা জেলা

গাইবান্ধায় অনির্দিষ্টকালের জন্য ডাকা পরিবহন ধর্মঘট আগামী ১৭ ডিসেম্বর ভোর পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে। গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম মেহেদী হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ধর্মঘট স্থগিত করা হয়েছে। বর্তমানে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে শুরু হওয়া পরিবহন ধর্মঘট বুধবার রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত পালিত হয়। এতে করে জেলার যাত্রীসাধারণ চরম বিপাকে পড়েন বলে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়।

এর আগে চেম্বার অব কর্মাস অ্যান্ড ইন্ডাস্টিজের দু’ গ্রুপের সংঘর্ষে ট্রাক মালিক সমিতির চেম্বার অব কর্মাস ইন্ডাস্টিজের এক নেতাকে মারধর ও তাঁর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলার প্রতিবাদে মঙ্গলবার বিকেলে ধর্মঘটের ঘোষণা দেয় জেলা মোটর মালিক সমিতি ও জেলা ট্রাক, ট্যাংকলড়ি মালিক সমিতি।

একই ঘটনার প্রতিবাদে জেলা শহরের সকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেও ধর্মঘট শুরু করে গাইবান্ধা শিল্প ও বণিক সমিতি।

তবে বুধবার দুপুর ১টায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেও ধর্মঘট স্থগিত করা হয়।

জেলা ট্রাক মালিক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবুল হোসেন রাতে বাংলা ট্রিবিউনকে মোবাইল ফোনে জানান, শহীদ বুদ্ধিজীবী ও বিজয় দিবসের কারণে বুধবার রাত ৮টায় জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. আবদুস সামাদের মধ্যস্থতায় আগামি ১৭ ডিসেম্বর ভোর পর্যন্ত ধর্মঘট স্থগিত করা হয়।

প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার সকালে নিজস্ব মিলনায়তনে চেম্বার অব কর্মাস অ্যান্ড ইন্ডাস্টিজের বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় চেম্বারের সাবেক সভাপতি আবুল খায়ের মোরছালিনের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেন সদস্যরা।

এ নিয়ে বর্তমান সভাপতি শাহজাদা আনোয়ারুল কাদির ও সাবেক সভাপতি আবুল খায়েরের সমর্থকদের  মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতি হয় বলে জানা যায়। এসময় বেশকিছু চেয়ার ভাঙচুর করা হয়। পরবর্তীতে পরিস্থিতি শান্ত হলে সভার কাজ শেষ হয়।

এ ঘটনার জের ধরে মঙ্গলবার বিকেলে আবুল খায়ের মোরছালিনের সমর্থকরা বর্তমান সভাপতির পক্ষের জেলা ট্রাক মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোক্তাদুর রহমানের শহরের ডিবি রোডস্থ শ্যামলী পরিবহনের কাউন্টারে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে।

এ সময় বাধা দেওয়ায় তারা মোক্তাদুর রহমান, তাঁর ছোটভাই বাবুল মিয়া, শ্যামলী কাউন্টারের ব্যবস্থাপক সুমন মিয়াকে মারধর করে। পরে বর্তমান সভাপতির পক্ষের ব্যবসায়ী পিয়ারুল ইসলামের শহরের হকার্স মার্কেট এলাকায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালানো হলে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। এ সময় ছয়জন আহত হন। তাদেরকে গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এনিয়ে ব্যবসায়ী পিয়ারুল ইসলাম বাদী হয়ে মঙ্গলবার রাতেই ২৩ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ৪৩ জনকে আসামি করে সদর থানায় মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় চারজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

/এইচকে/