বেরোবিতে ছাত্রী হল ও গবেষণা কেন্দ্র নির্মাণ কাজ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী





অবশেষে উদ্বোধন হতে যাচ্ছে প্রায় দুবছর আগে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ একনেকে অনুমোদিত রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে শেখ হাসিনা ছাত্রী হল এবং গবেষণার জন্য ড. ওয়াজেদ ইন্টারন্যাশনাল রিসার্চ ইনস্টিটিউটের নির্মাণ কাজ। আগামী ২৪ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এ দুটি অত্যাধুনিক ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন করবেন।শেখ-হাসিনা-ছাত্রী-হল



বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. একে এম নূর-উন-নবী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, এ জন্য সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল বিভাগ সূত্রে জানা জানা যায়, ২০১৪ সালের জানুয়ারি মাসে একনেকের এক বৈঠকে রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের একটি হল ও ড. ওয়াজেদ রিসার্চ ইনস্টিটিউট ভবন নির্মাণের জন্য বিশেষ উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের অনুমোদন দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ জন্য সাড়ে ৯৭ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। তবে প্রকল্পটি তৈরি করে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের জন্য সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. জলিল মিয়ার আমলে প্রস্তাব পাঠানো হয়। প্রধানমন্ত্রী ছাত্রীদের হল ১০ তলা বিশিষ্ট করা এবং সেখানে সব ধরনের সর্বাধুনিক সুযোগ সুবিধা রাখা একইভাবে রিসার্চ ইনস্টিটিউটকেও আধুনিক মানসম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। পরে ভবনের নকশার পরিবর্তন করে আধুনিক যুগপযোগী একটি নকশা তৈরি প্রকল্পটি বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. নূর-উন-নবীর আমলে অনুমোদন দেওয়া হয়।
এই প্রকল্পের আওতায় ছাত্রীদের জন্য শেখ হাসিনা হল ও গবেষণার জন্য ড. ওয়াজেদ ইন্টারন্যাশনাল রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং ইনস্টিটিউট নামে দুটি ভবন নির্মাণ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। স্থাপনা দুটির নির্মাণ কাজ ২০১৮ সালের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম জানান, ২০১৫ সালের জানুয়ারি মাসে উল্লেখিত স্থাপনা দুটির টেন্ডার আহ্বান করা হয়। টেন্ডারে ছাত্রীদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর নামকরণে শেখ হাসিনা হলের মোট বাজেট ৫১ কোটি ৩৫ লাখ টাকা এবং রিসার্চ ইনস্টিটিউটের মোট বাজেট ২৬ কোটি ৮৭ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।ড.-ওয়াজেদ-ইন্টারন্যাশনাল-রিসার্চ-ইন্সটিটিউট
এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. একে এম নূর-উন-নবী স্থাপনার দুটি বৈশিষ্ট্য উল্লেখ্য করে বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, প্রধানমন্ত্রীর নামকরণে ছাত্রীদের আবাসিক হলটি অত্যাধুনিক মানের করা হবে। এক হাজার আসন বিশিষ্ট ১০ তলা এই হলে থাকছে পার্লার, জিমসহ পৃথক পৃথক রান্নাঘর। নির্বিঘ্নে ওঠানামার জন্য থাকছে দুটি লিফটের ব্যবস্থা। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক মানের রিসার্চ ইনস্টিটিউটে দেশি-বিদেশি সবাই এমফিল, পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করতে পারবে।
তিনি আরও জানান, আগামী ২৪ ডিসেম্বর সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও কনফারেন্সের অনুষ্ঠানকে ঘিরে ইতোমধ্যে প্রস্তুতি নেওয়ার কাজ চলছে। অনুষ্ঠানে অতিথিদের আমন্ত্রণ থেকে শুরু করে যাবতীয় বিষয়কে সর্বোচ্চ গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। এ নিয়ে সমন্বয় কমিটিও গঠন করা হয়েছে।
এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর এই অনুষ্ঠানকে ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা বলয়ের চাঁদরে বিশ্ববিদ্যালয়কে ঢেকে রাখার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ড. শফিক আশরাফ।
তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী এখানে উপস্থিত থাকলে যেমন নিরাপত্তা বলয় হতো ঠিক তেমনি ভিডিও কনফারেন্সেও একইভাবে কয়েক স্তরের নিরপাত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আমন্ত্রিত অতিথি ও নির্দিষ্ট কার্ড ছাড়া অনুষ্ঠানে কেউ থাকতে পারবে না। সেদিন ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের প্রবেশ পুরোপুরি নিষিদ্ধ থাকবে।
এদিকে শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, এ উপাচার্যের আমলে দৃশ্যমান কোনও উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সংঘটিত হয়নি। শুধু কাগজ কলমেই তা সীমাবদ্ধ ছিল। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী অনেক আগেই এ প্রকল্প অনুমোদন দিলেও টেন্ডার আহ্বান থেকে শুরু অন্যান্য কাজ যেভাবে করা হয়েছে তাতে করে তারা আশাবাদি হতে পারছেন না। যদিও দুটি স্থাপনায় এবার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ শুরু করার প্রস্তুতি গ্রহণ করতে দেখা যাচ্ছে সেটা যেন প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে না হয় সেদিক দৃষ্টি দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

/এআর/