লেখকের মৃত্যুর পর এটাই তার প্রথম জন্মদিন। এ উপলক্ষে কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজের শহীদ মিনার চত্বরে কলেজের উদ্যোগে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর সাবিহা খাতুন, কুড়িগ্রাম পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ও লেখেকর পরিবারের ঘনিষ্ঠ আব্রাহাম লিংকন, কুড়িগ্রাম প্রেসক্লাবের সভাপতি মমিনুল ইসলাম মঞ্জু, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের আহ্বায়ক শ্যামল ভৌমিকসহ অন্যান্য অতিথিরা।
এর আগে কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজের প্রবেশ গেটের দক্ষিণে অবস্থিত সৈয়দ শামসুল হকের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায় জেলা আওয়ামী লীগ, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট কুড়িগ্রাম জেলা শাখা, কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ, জেলা পুলিশ কুড়িগ্রাম, কুড়িগ্রাম প্রেসক্লাবসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।
উল্লেখ্য, সৈয়দ শামসুল হক ১৯৩৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর কুড়িগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। কবিতা, উপন্যাস, নাটক, ছোটগল্প তথা সাহিত্যের সব শাখায় সাবলীল পদচারণার মধ্য দিয়ে তিনি হয়ে ওঠেন সব্যসাচী। ১৯৬৪ সালে মাত্র ২৯ বছর বয়সে বাংলা একাডেমি পুরস্কার পান সৈয়দ শামসুল হক। ১৯৫০-এর দশকে প্রকাশিত হয় তার প্রথম উপন্যাস ‘দেয়ালের দেশ’। পরে ‘খেলারাম খেলে যা’, ‘নিষিদ্ধ লোবান’, ‘সীমানা ছাড়িয়ে’, ‘নীল দংশন’, ‘বারো দিনের জীবন’, ‘তুমি সেই তরবারী’, ‘কয়েকটি মানুষের সোনালী যৌবন’, ‘নির্বাসিতা’র মতো বিখ্যাত উপন্যাস উপহার দিয়েছেন। তার বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘একদা এক রাজ্যে’, ‘বৈশাখে রচিত পঙক্তিমালা’, ‘পরানের গহীন ভিতর’, ‘অপর পুরুষ’, ‘অগ্নি ও জলের কবিতা’। ‘পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়’, ‘নুরুলদীনের সারা জীবন’ সৈয়দ শামসুল হকের বিখ্যাত কাব্যনাট্য। চলতি বছরের ২৭ সেপ্টেম্বর তিনি ঢাকায় মৃত্যু বরণ করলে তার শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী ২৮ সেপ্টেম্বর কুড়িগ্রামে তাকে সমাহিত করা হয়।
আরও পড়ুন-
‘আপনারাই হিসাব করে দেখুন, আমাদের মাস চলে কী করে’
/এফএস/