ওসি কুনিও হত্যা মামলায় আরও ৫ সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন

রংপুরে জাপানি নাগরিক ওসি কুনিও হত্যা মামলায় আজ বৃহস্পতিবার আরও ৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা সম্পন্ন হয়েছে। এ নিয়ে মামলার মোট ৫৭ জন সাক্ষীর মধ্যে ৪৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হলো। রংপুরের বিশেষ জজ নরেশ চন্দ্র সরকারের আদালতে চাঞ্চল্যকর এ মামলার বিচার কাজ চলছে। আগামী ৫ ফেরুয়ারি মামলার পরবর্তী সব সাক্ষীদের আদালতে উপস্থিত করানোর জন্য কোট সিএসআইকে নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।RANGPUR JANGI PHOTO

এদিকে আজ ৩ পুলিশ সদস্য আদালতে সাক্ষ্য নিতে না আসায় তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বিচারক। তিনি বলেছেন, পুলিশের দায়িত্ব হচ্ছে আদালতে সাক্ষীদের উপস্থিত করানোর, কিন্তু তারা তা করতে ব্যর্থ হয়েছে।

সরকার পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট রথীশ চন্দ্র জানান, আজ আদালতে জাপানি নাগরিক ওসি কুনিওকে রংপুরের সারাই ইউনিয়নের আলুটারী গ্রামে যেখানে গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল ওই এলাকার অধিবাসী শাহাজাহান বাবু ও ৪ পুলিশ সদস্য সাক্ষ্য দিয়েছেন।

পুলিশ সদস্যরা হলেন- এসআই জহুরুল ইসলাম , এসআই দিলিপ কুমার, এএসআই ইকবাল হোসেন ও এসআই আশিকুর রহমান। পুলিশ সদস্যরা আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে বলেছেন, আসামিরা নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জেএমবির সদস্য বলে এলাকার লোকজন জানিয়েছে। তারা জাপানি নাগরিক হত্যাসহ বিভিন্ন হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিল বলেও তদন্তকালে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

এদিকে আজ ব্যালিস্টিক এক্সপার্ট জামাল উদ্দিন ও এএসআই সবুজ সরকার ও এসআই মিন্টু চন্দ্র সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য সমন পাওয়ার পরেও আদালতে না আসায় বিচারক তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এভাবে আদালতের নির্দেশ অমান্য করায় তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করে ৫ ফেরুয়ারি সব সাক্ষীকে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দিয়েছেন। এসময় কোর্ট সিএসআই বাবর আলীকে বিচারক ডেকে এনে সাক্ষীরা না আসার কারণ জানতে চান।

এর আগে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে কারাগারে আটক জঙ্গি মাসুদ রানা , আবু সাঈদ , লিটন , এছাহাক আলী ও সাখাওয়াতকে পুলিশের একটি পিকআপে করে আদালতের সামনে নামনো হয়। এরপর তাদের আদালতে নিয়ে যাওয়া হয়। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আবারও তাদের কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ৩ অক্টোবর সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার আলুটারী গ্রামে জাপানি নাগরিক ওসি কুনিও রিকশায় করে ঘাসের খামারে যাওয়ার সময় দুবৃর্ত্তরা তাকে গুলি করে হত্যা করে।

এ ঘটনায় কাউনিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। পরবর্তীকালে জেএমবির জঙ্গি মাসুদ রানা গ্রেফতার হওয়ার পর জেএমবির জঙ্গিরাই জাপানি নাগরিককে হত্যা করেছে বলে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। পরে মাসুদ রানা ছাড়াও আরও ৪ জঙ্গি পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়। তদন্ত শেষে পুলিশ ৮ জঙ্গির বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে।

/এআর/