দিনাজপুর জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে শিশুরা। বেডে স্থান সংকুলান না হওয়ায়, হাসপাতালের মেঝেতে বিছানা করে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে তাদের।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, হাসপাতালে ডায়রিয়া শিশু রোগীর বেডের সংখ্যা ৮টি। সেখানে ভর্তি রয়েছে ৩৮ জন আর নিউমোনিয়া শিশুরোগীর বেডের সংখ্যা ১৮টি। সেখানে ভর্তি রয়েছে ৩২ জন। এছাড়া দিনাজপুর অরবিন্দু শিশু হাসপাতালসহ অন্যান্য হাসপাতালগুলোতেও ভর্তি রয়েছে বিপুল সংখ্যক শিশু।
স্থানীয়রা জানায়, বেশ কয়েকদিন ধরেই দিনাজপুরে পরিবর্তন হচ্ছে আবহাওয়া। দিনে গরম থাকলেও রাতে শীত অনুভুত হচ্ছে। প্রকৃতির এই পরিবর্তণের সঙ্গে সঙ্গে দিনাজপুরে দেখা দিচ্ছে শীতজনিত ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়া রোগের প্রার্দুভাব। আর এসব রোগে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা।
কমলপুর থেকে হাসপাতালে আসা আসমা খাতুন জানান, নিউমোনিয়া জনিত কারণে তার দেড় বছরের ছেলেকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছেন। হঠাৎ করে ঠাণ্ডা লাগার কারণে ৩ দিন ধরে চিকিৎসা নিচ্ছেন হাসপাতালে।
একই এলাকার রিয়াজুল ইসলাম জানান, দিনে গরম আর রাতে শীতের কারণে বাচ্চার প্রচুর সর্দি লেগেছে। নিশ্বাস নিতে কষ্ঠ হচ্ছে, তাই তাকে ভর্তি করেছেন হাসপাতালে।
মিনা খাতুন নামে অপর একজন জানান, ২ দিন ধরে তার বাচ্চার ডায়রিয়া। হাসপাতালে নিয়ে এসে জানতে পেরেছেন ভাইরাসের কারণে এই রোগ হয়েছে।
দিনাজপুর জেনারেল হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের নার্স ইনচার্জ সুফিয়া বেগম জানান, প্রতিদিনই প্রায় ৮ থেকে ১০ জন শিশু রোগী ভর্তি হচ্ছে হাসপাতালে। যে পরিমাণ রোগী ভর্তি হচ্ছে, তাতে হাসপাতালের বেডে স্থান সংকুলান না হওয়ায়, মেঝেতে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে রোগীদের। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী রোগীদের সেবা প্রদান করা হচ্ছে।
দিনাজপুর জেনারেল হাসপাতালের সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. ওয়াহেদুল হক জানান, আবহাওয়া পরিবর্তনে রোটা ভাইরাসের কারণে শিশুরা এসব রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।
চিকিৎসা সেবার ঘাটতি না থাকলেও জনবলের ঘাটতি রয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
/এমডিপি/