ড. ওয়াজেদ রিসার্চ ইন্সটিটিউটে দুর্বৃত্তের হামলা, আহত ৮

ড. ওয়াজেদ রিসার্চ ইন্সটিটিউটচাঁদা না দেওয়ায় রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নির্মাণাধীন ড. ওয়াজেদ রিসার্চ ইন্সটিটিউটের নির্মাণস্থলে হামলা চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এ সময় তারা নিরাপত্তারক্ষীসহ ৮ শ্রমিককে গুরুতর আহত করেছে। আহতদেরকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৯টায় এ ঘটনা ঘটলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোনও পদক্ষেপ নেয়নি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ ঘটনার প্রতিবাদে দায়ীদের গ্রেফতার ও শ্রমিক কর্মচারীদের নিরাপত্তার দাবিতে আজ বুধবার (১ মার্চ) থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দিয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
প্রত্যক্ষদর্শী ও আহত শ্রমিকরা জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অগ্রাধিকার প্রকল্প হিসেবে ২৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ড. ওয়াজেদ রিসার্চ ইন্সটিটিউট ভবন নির্মাণ কাজ শুরু হয়। নির্মাণ কাজের শুরুতেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছে বিভিন্ন নামে চাঁদা দাবি করে আসছে সন্ত্রাসীরা। সোমবার একদল সন্ত্রাসী নির্মাণস্থলে গিয়ে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। টাকা না দিলে কাজ বন্ধ করাসহ বিভিন্ন হুমকি দেওয়া হয়। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে ৪০/৫০ জন সন্ত্রাসী লোহার রড, রাম-দাসহ বিভিন্ন অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এ সময় তারা নিরাপত্তা প্রহরীসহ শ্রমিকদেরকে পিটিয়ে আহত করে। সেখান থেকে চলে যাওয়ার আগে তারা হুমকি দেয়- দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কাজ বন্ধ রাখতে।

তারা আরও জানান, খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ ফাঁড়ির দুই পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থলে আসে। এরপর আহত শ্রমিক কর্মচারীদের রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

আহতরা হলেন- নিরাপত্তা প্রহরী বাবুল (৩৫) , শ্রমিক কর্মচারী অর্জুন (২২) , বাবলু (২৮), নাজির হোসেন (২০) , জাবেদ আলী (২৫) গোলাম মোস্তফা (৩০) , মঞ্জুরুল ইসলাম (২২) ও সালাম (২৩)।

হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মমতাজ আহাম্মেদ জানান, আহতদের শরীরে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। অনেকের হাতসহ শরীরের বিভিন্ন অংশের হাড় ভেঙে গেছে।

এদিকে খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভোস্ট তামান্না ছিদ্দিকা, বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই এরশাদ আলীসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

এ ব্যাপারে প্রক্টর তামান্না ছিদ্দিকা জানান, আহতরা হামলাকারীদের চিনতে পারেননি। এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। একই কথা বলেছেন পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই এরশাদ আলী।

এদিকে নির্মাণাধীন ড. ওয়াজেদ রিসার্চ ইন্সটিটিউটের ঠিকাদারের ম্যানেজার সোহেল বলেন, বিষয়টি সোমবার রাতেই বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলমের কাছে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা না দেওয়া হলে কাজ করা কোনওভাবেই সম্ভব নয়। এ কারণে নির্মাণ কাজ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

/এআর/