সাঁওতাল পল্লীতে আগুন: চিহ্নিত দুই পুলিশ সদস্যই এখন রিজার্ভ ফোর্সে

সাঁওতালদের উচ্ছেদের সময় পুলিশের অ্যাকশনগাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার সাঁওতাল পল্লীতে আগুন দেওয়ার ঘটনায় জড়িত পুলিশ সদস্যদের মধ্যে দুজনকে চিহ্নিত করে উচ্চ আদালতে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে পুলিশ। তারা দুজনেই এখন দুই জেলায় রিজার্ভ ফোর্সে আছেন। ঘটনার সময় উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাহবুবুর রহমান গাইবান্ধা গোয়েন্দা পুলিশে (ডিবি) ও কনস্টেবল সাজ্জাদ হোসেন জেলা পুলিশ লাইনে (রিজার্ভ ফোর্স) কর্মরত ছিলেন। বর্তমানে এসআই মাহবুবুর রহমান দিনাজপুর জেলা পুলিশ লাইনে (রিজার্ভ ফোর্স) ও কনস্টেবল সাজ্জাদ হোসেন পঞ্চগড় জেলা পুলিশ লাইনে (রিজার্ভ  ফোর্স) কর্মরত রয়েছেন।

এসআই মাহবুবুর রহমানের বাড়ি রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ি থানায় ও সাজ্জাদের বাড়ি রংপুর জেলায়। গাইবান্ধা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা উপ-পরিদর্শক (এসআই) প্রতাপ কুমার জানান, সাঁওতাল পল্লীতে সংঘর্ষের ঘটনার সময় মাহবুবুর রহমান গাইবান্ধা ডিবি (গোয়েন্দা) পুলিশে কর্মরত ছিলেন। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তাকে গত ২২ ফেব্রুয়ারি প্রত্যাহার করে গাইবান্ধা পুলিশ লাইনে আনার পর ২৩ ফেব্রুয়ারি সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়। এরপর বরখাস্ত অবস্থায় তাকে বদলি করে দিনাজপুর পুলিশ লাইনে (রির্জাভ ফোর্স) পাঠানো হয়। তিনি প্রায় দুই বছর  গাইবান্ধায় ডিবি পুলিশে কর্মরত ছিলেন।

গাইবান্ধার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এ সার্কেল) মো. রবিউল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সাঁওতাল পল্লীতে আগুন দেওয়ার ঘটনার সময় (এসআই) মাহবুবুর ডিবি পুলিশে ও কনস্টেবল সাজ্জাদ রিজার্ভ ফোর্সে কমরত ছিলেন। সাঁওতাল পল্লীতে আগুনের ঘটনার পর বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি উচ্চ আদালতে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার আগে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। প্রথমে মাহবুবুর রহমান ও সাজ্জাদ হোসেনকে প্রত্যাহার করে গাইবান্ধা পুলিশ লাইনে নেওয়া হয়। এরপর তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। পরে মাহবুবুরকে দিনাজপুরে ও সাজ্জাদকে পঞ্চগড় পুলিশ লাইনে (রিজার্ভ ফোর্স) বদলি করা হয়।

তিনি আরও জানান, গোয়েন্দা পুলিশে কর্মরত থাকা অবস্থায় (এসআই) মাহবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ ছিল না। এছাড়া পুলিশ লাইনে (রির্জাভ ফোর্স) কর্মরত সাজ্জাদ হোসেনের বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ ছিল না।’

পঞ্চগড় পুলিশ লাইনের রিজার্ভ অফিসার (আরও) মীজানুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, 'কনস্টেবল সাজ্জাদ পঞ্চগড় পুলিশ লাইনেও সাসপেন্ড অবস্থায় আছে। তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থাও চলমান।প্রসঙ্গত, গত ৬ নভেম্বর গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় সাহেবগঞ্জ ইক্ষু খামারের জমিতে আখ কাটাকে কেন্দ্র  করে পুলিশ ও রংপুর চিনিকল শ্রমিক-কর্মচারীদের সঙ্গে সাঁওতালদের সংঘর্ষ হয়। এতে  তিন জন সাঁওতাল পুরুষ নিহত হন । এছাড়া উভয়পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হন। এসময় পুলিশের উপস্থিতিতে সাঁওতালদের ঘরবাড়িতে আগুন দেওয়া হয়।

এদিকে গাইবান্ধার সাঁওতাল পল্লীতে আগুনের ঘটনায় দুজন পুলিশকে চিহ্নিত করে বৃহস্পতিবার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে পুলিশ। পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) উপপরিদর্শক মাহবুবুর রহমান ও গাইবান্ধা জেলা পুলিশ লাইন্সের কনস্টেবল মো. সাজ্জাদ হোসেনকে চিহ্নিত করে এ প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ৫৮ জন পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে গত ৮ ফেব্রুয়ারি সাঁওতালদের বাড়িঘরে আগুন লাগানোর ঘটনায় চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের তদন্তে সহযোগিতা না করায়, গাইবান্ধার পুলিশ সুপার মো.আশরাফুল ইসলামকে প্রত্যাহার করার নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। 

আজ  (বৃহস্পতিবার) বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু। রংপুর রেঞ্জের ডিআইজির করা প্রতিবেদনটিতে বলা আছে, শনাক্ত করা দুজনকে ইতোমধ্যে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। ঘটনার দিন ওই এলাকায় মোট ৮৫ জন পুলিশ ছিল। তাদের মধ্যে ৫৪ জন জেলা পুলিশ, চার জন সুন্দরগঞ্জের পুলিশ এবং ১৪ জন স্পেশাল ফোর্স পুলিশ। এদের সবাইকে নানা জায়গায় বদলি করা হয়েছে এবং সেসময় গাইবান্ধার পুলিশ সুপার মো. আশরাফুল ইসলামকে খাগড়াছড়িতে বদলি করা হয়েছে।

/এফএস/এপিএইচ/

আরও পড়ুন- 

পাটকে অবহেলা না করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা পুনঃতদন্ত হবে না