গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে সাঁওতাল পল্লীতে হামলা, আগুন ও তিনজনকে গুলি করে হত্যার ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও বাপ-দাদার জমি ফেরতের দাবিতে মানববন্ধন করেছে সাঁওতালরা। শনিবার দুপুর ১২টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা শহরের চৌমাথা মোড়ে এ মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
সাহেবগঞ্জ বাগদাফার্ম ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটির আয়োজনে মানবন্ধনে প্রায় দুই শতাধিক সাঁওতাল হাতে তীর-ধনুক, ব্যানার ও ফ্যাস্টুন নিয়ে অংশ নেয়। মানববন্ধনে সাঁওতালরা ছাড়াও সাঁওতাল নেতারা, বাঙালি ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন চলাকালে বক্তব্য রাখেন, কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা মিহির ঘোষ, নারী নেত্রী প্রতিভা সরকার ববি, ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটির সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান আলী, সুফল হেমব্রম প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, ‘সাঁওতাল পল্লীতে হামলা, আগুন ও লুটপাটের ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি উচ্চ আদালতে প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন। এরইমধ্যে জড়িত দুই পুলিশকে চিহ্নিত ও সাঁওতাল পল্লীর চামগাড়ি এলাকা থেকে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। সাঁওতাল পল্লীতে হামলার ঘটনায় এখনো অনেকে ধরাছোয়ার বাইরে। শুধু দুই পুলিশ সদস্য নয় পুরো ঘটনার সঙ্গে যারাই জড়িত থাকুক না কেন তাদের সনাক্ত করা দরকার।’ তাছাড়াও সাঁওতাল পল্লীতে হামলা, আগুন, লুটপাট ও গুলি চালিয়ে তিনজনকে হত্যার ঘটনায় দোষীদের সব্বোর্চ বিচারের দাবি জানান তারা।
বক্তারা আরও বলেন, ‘হামলা ও আগুনে ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়ার প্রায় পাঁচ মাস অতিবাহিত হয়েছে। এখনো শতশত সাঁওতাল পরিবারের লোকজন খেয়ে না খেয়ে মাদারপুর ও জয়পুরপাড়ার সাঁওতাল পল্লীতে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তার ওপর আবার তাদের মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে।’ তাই ক্ষতিপূরণ দেওয়াসহ উচ্ছেদ করা সব সাঁওতালদের বাপ-দাদার জমি দ্রুত ফেরত দেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানানো হয়।
এর আগে, প্রায় দুই শতাধিক সাঁওতাল মাদারপুর ও জয়পুরপাড়া সাঁওতাল পল্লী থেকে ৭ কিলোমিটার পায়ে হেঁটে নাগাড়া ঢোল বাজিয়ে হাতে তীর ধনুক, ব্যানার, ফেস্টুন নিয়ে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা শহরে জমায়েত হতে থাকে। পরে তারা মানববন্ধনে অংশ নেয়। এরপর মানবন্ধন শেষে সাঁওতাল সম্প্রদায়ের লোকজন আবারও মিছিল করে মাদারপুর ও জয়পুরপাড়া সাঁওতাল পল্লীতে ফিরে যান।
/জেবি/
আরও পড়তে পারেন : বান্দরবানে বিষবৃক্ষ তামাকের আগ্রাসন