নীলফামারীর ডিমলায় উজানের পাহাড়ি ঢলে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ওই এলাকায় বন্যা দেখা দিয়েছে। নীলফামারী ও লালমনিররহাটের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে উঠতি ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
২ এপ্রিল সন্ধ্যা থেকে পাহাড়ি ঢলে ডিমলা উপজেলার টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের চরখড়িবাড়ী মৌজার আশেপাশে কয়েক হেক্টর জমিতে ফসল তলিয়ে যায়। ওই এলাকায় ভুট্টা, বাদাম, মরিচ, পেঁয়াজ, রোপা আমন ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম শাহীন।
সোমবার (৩ এপ্রিল) সকাল থেকে ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি স্লুইচ গেট খুলে দেওয়া হয়েছে। ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানিয়েছে, রবিবার পানির প্রবাহ বেড়েছে দশমিক ৭৫ মিটার। তিস্তা ব্যারেজ পয়েন্টে রবিবার পানি প্রবাহ ৫০ দশমিক ২৫ মিটার থাকলেও সোমবার দুপুর ১২ টায় তা বেড়ে ৫১ দশমিক ৫ সেন্টিমিটারে দাঁড়ায়।
টেপাখড়িবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম শাহীন বলেন, উজানের ঢলে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যার কারণে চরখড়িবাড়ী গ্রামসহ আশেপাশের ১০টি গ্রামে বন্যার পানিতে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বন্যার পানিতে তলিয়ে গেয়ে ভুট্টা, মরিচ, পেঁয়াজ, রসুন, মিষ্টি কুমড়ার ক্ষেত।
পাউবোর কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা রফিউল বারী বলেন, তিস্তা নদীতে হঠাৎ পানি বৃদ্ধির কারণে চরাঞ্চলে উঠতি ফসলের ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে।
চরখড়িবাড়ী গ্রামের মশিয়ার রহমানর (৪৫) বলেন, ‘এক বিঘা জমিতে মিষ্টি কুমাড়া লাগিয়েছি। কুমড়াগুলো পরিপক্ক হতে আরও ৭/৮ দিন সময় লাগতো। বন্যার কারণে ক্ষেতটি পানিতে সম্পূর্ণ তলিয়ে গেছে।
একই গ্রামের আব্দুল আউয়াল বলেন, ‘বন্যার কারণে একবিঘা জমির রোপা পেঁয়াজ ও ভুট্টা ক্ষেতের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বন্যার কারণে ভুট্টা ক্ষেতগুলো পানিতে তলিয়ে গেছে। এগুলো এখন তলিয়ে গেছে।’
তিনি আরও বলেন, রোববার রাত থেকে উজানের ঢলে ঢইটুম্বর হয়েছে তিস্তা নদী। এ অবস্থা চলতে থাকলে তিস্তা তীরবর্তী মানুষজন সাবল্বী হতে পারবেনা।
গত বছরের বন্যার ধকল কেটে উঠতে না উঠতেই আবারও অকাল বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি দেখা দিয়েছে।
/এসটি/
আরও পড়ুন: সময় মতো বাঁধ না হওয়ায় সুনামগঞ্জে ৭২ হাজার হেক্টর জমির ধান পানির নিচে