পঞ্চগড়ে সম্প্রতি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, বাসা-বাড়ি ও হাট-বাজারে চুরির হিড়িক পড়েছে। নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার, ল্যাপটপ, মোটরসাইকেল, সাইকেল, গরুসহ বিভিন্ন মালামাল চুরি হচ্ছে। ভুক্তভোগীরা পুলিশের দ্বারস্থ হলেও হঠাৎ করে বেড়ে যাওয়া চুরি প্রশাসন সামাল দিতে পারছে না বলে অভিযোগ ওঠেছে।
৩ এপ্রিল গভীর রাতে শহরের ধাক্কামারা এলাকায় বিকাশ এজেন্ট স্বরনিকা এন্টার প্রাইজ, ইউনিলিভার ও মোবাইল কোম্পানি রবি অপারেটরের পরিবেশক অফিসে চুরি হয়েছে। চোরেরা অফিসের তিনটি কক্ষের ভোল্ট এবং আলমিরা ভেঙে নগদ ২২ লাখ টাকা, ৩ লাখ টাকার রিচার্জ কার্ড চুরি করে নিয়ে যায়। চোর ও চুরির দৃশ্য ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরায় রেকর্ড থাকলেও পুলিশের তেমন কোনও তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন ক্ষতিগ্রস্থরা।
সিসিটিভির ফুটেজে দেখা গেছে, জিন্স প্যান্ট, টি শার্ট ও জ্যাকেট পরা দুই চোর লোহার রড হাতে নিয়ে ভেতরে ঢুকে দ্বিতীয় তলায় বাড়ির মালিকে দরজায় বাইরে থেকে ছিটকিনি লাগিয়ে দেয়। পরে তারা চুরি করে।
এদিকে বিভিন্ন বাসা-বাড়ি ও হাটবাজার থেকে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার, ল্যাপটপ, মোটরসাইকেল, সাইকেলসহ বিভিন্ন মালামাল অহরহ চুরির ঘটনা ঘটছে। সম্প্রতি জেলা প্রশাসন অফিসের নাজিরসহ তিনজনের মোটরসাইকেল চুরি হয়েছে। চুরি ঘটনায় মামলা দায়ের হলেও এখনও এ নিয়ে তেমন কোনও পদক্ষেপ নেয়নি পুলিশ।
পঞ্চগড় চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আশরাফুল আলম পাটোয়ারি বলেন, ‘আমরা বাসায় ভয়ে রাত কাটাই। কখন কোন ঘটনা ঘটে যায়। চেম্বারের সদস্য তাজুল ইসলামের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চুরির ঘটনাটি নিঃসন্দেহে দুঃসাহসিক। আশা করি ভিডিও ফুটেজ দেখে পুলিশ দ্রুত চোরদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনবে।’
পঞ্চগড় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল হাসান সরকার বলেন, ‘এটা কি কোনও নিউজ করার মত ঘটনা হলো! আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। খোঁজ নেওয়া হচ্ছে, মামলা হলে ব্যবস্থা নেব। আমরা যখন চোর ধরবো, যখন আমাদের সফলতা আসবে তখন নিউজ করবেন?’
পুলিশ সুপার মো. গিয়াসউদ্দিন আহামেদ জানান, বিকাশ এজেন্টের দোকানে চুরির ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে।
/এসটি/