এর আগে গনযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থীরা প্রক্টরের অপসারণের দাবিতে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল বের করে ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করার সময় অন্যান্য বিভাগের শিক্ষার্থীরাও মিছিলে যোগ দেয়। পরে বিশাল মিছিল ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে মানব বন্ধন করে। সেখানে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন গন যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী ময়নুল ইসলাম , দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের মোস্তফা, অর্থনীতি বিভাগের সামসুলসহ অন্যান্য শিক্ষার্থীরা ।
সমাবেশ শেষে শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের কাছে স্মারক লিপি প্রদান করে সেখানে তারা লিখিত অভিযোগে জানায়, ১লা বৈশাখ শুক্রবার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মঙ্গল শোভাযাত্রায় অংশ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেট দিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করার সময় ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর তামান্না ছিদ্দিকার সঙ্গে অসদাচারণ করার অভিযোগ এনে দীপু রায়কে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। অসাদাচারণের অভিযোগ অস্বীকার করলে প্রক্টর বিশ্ববিদ্যালয়ের পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই এরশাদ আলীকে নির্দেশ দেন দীপুকে গ্রেফতার করতে। এ সময় গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড, নজরুল ইসলামসহ ওই বিভাগের শিক্ষার্থীরা পুলিশ সামনে উপস্থিত ছিলেন। তাদের সামনেই প্রক্টর এ আদেশ দেন।
এ সময় দীপু কোনও অপরাধ করেনি জানিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়ার আবেদন জানালে প্রক্টর বলেন, ‘তাকে (দীপুকে) শাস্তি ভোগ করতেই হবে, শাস্তি দেওয়া ছাড়া কোনওভাবেই তাকে ছাড়া হবে না।’
এরপর বিভাগীয় প্রধান ড. নজরুল ইসলাম দীপু রায়কে ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে পুলিশ ফাঁড়ি থেকে চলে আসে।
এদিকে ওইদিন দুপুর ১টার দিকে দীপুর বাবা তার ছেলেকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে খবর জানতে পেরে অসুস্থ হয়ে পড়ে। বিষয়টি শিক্ষার্থীরা প্রক্টরকে জানানোর পরেও তাকে ছাড়া হয়নি। দুপুর আড়াইটার দিকে সন্তানের গ্রেফতারের খবরে তিনি হার্ট অ্যাটাকে মারা যান। এর পরপরেই তাদের বাসা
থেকে দীপুকে জরুরি ভিত্তিতে তাদের বাড়ি নীলফামারীতে আসতে বলা হয়।
শিক্ষার্থীরা বিষয়টি জানানোর পরেও প্রক্টর তাকে ছেড়ে দেয়নি। তিনি উল্টো বলেন, আগে খবর নিতে হবে ঘটনা সত্যি কিনা। পরে দীপুর বাবা মারা যাওয়ার বিষয় পুরো ক্যাম্পাসে জানাজানি হয়ে গেলে প্রক্টর তড়িঘড়ি করে দীপুকে ছেড়ে দেয়।
স্মারক লিপিতে শিক্ষার্থীরা আরও অভিযোগ করেন, এমন ব্যক্তি কীভাবে প্রক্টরের দায়িত্ব পায়।যেখানে অন্যায়ভাবে এক শিক্ষার্থীকে পুলিশের হাতে তুলে দিয়ে ৫ ঘণ্টা পুলিশ ফাঁড়িতে আটক রাখলো কোন ক্ষমতা বলে এটা শিক্ষার্থীরা জানতে চয়। সে কারণে আগামীকাল মঙ্গলবারের (১৮ এপ্রিল) মধ্যে চলতি দায়িত্বে থাকা প্রক্টর তামান্না ছিদ্দিকাকে অপসারণ করার দাবি জানানো হয়।
এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্টার ইবরাহিম কবীর জানান, তিনি শিক্ষার্থীদের একটি স্মারক লিপি পেয়েছেন। উপাচার্যকে একটি স্মারক লিপি দেওয়া হয়েছে, তিনি একটি মিটিং ছিলেন পরে তাকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।
সার্বিক বিষয়ে জানতে সোমবার কয়েকদফা প্রক্টর তামান্না ছিদ্দিকার সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
তবে শুক্রবার (১৪ এপ্রিল) তিনি বলেছিলেন, দীপু রায় তার সঙ্গে অসদাচরণ করেছে, তাই তিনি পুলিশে দিয়েছেন।
/এআর/