সিসি ক্যামেরার আওতায় হিলি স্থলবন্দরের আমদানি-রফতানি কার্যক্রম

01সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে জঙ্গি হামলার পরিপ্রেক্ষিতে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম হিলি স্থলবন্দরের আমদানি-রফতানি বাণিজ্যসহ বন্দরের সব কার্যক্রম সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে। বন্দরের প্রতিটি প্রবেশ পথে অতিরিক্তি সিকিউরিটি গার্ড মোতায়েনের মাধ্যমে বন্দরে আসা-যাওয়া সবাইকে তল্লাশি করে ও রেজিস্ট্রারের নাম লিপিবদ্ধের মাধ্যমে বন্দরে প্রবেশ ও বাহির হতে দেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও হিলি সীমান্ত এলাকায় বিজিবির সদস্য সংখ্যাও বাড়ানোর মাধ্যমে সীমান্তে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

হিলি স্থলবন্দরের পণ্য প্রবেশ গেট সীমান্তের জিরোপয়েন্ট থেকে শুরু করে বন্দরের ভেতরে পণ্য প্রবেশ ও বাহির হওয়ার গেটগুলো, পণ্য খালাস ও ভর্তি স্থানগুলিসহ পুরো বন্দরে ৮টি ক্যামেরা স্থাপন করেছে হিলি স্থলবন্দর শুল্কষ্টেশন। অপরদিকে বন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান পানামা হিলি পোর্ট লিংক লিমিটেড বন্দরের বিভিন্ন স্থানে ১১টি ক্যামেরা দিয়ে তারাও বন্দরের নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

সরেজমিন হিলি স্থলবন্দর পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, হিলি স্থলবন্দরের ভেতরে যাওয়ার প্রবেশ পথে প্রত্যেককে চেকআপ করার পরে তাদের নাম ঠিকানা নির্দিষ্ট রেজিস্ট্রারে লিপিবদ্ধ করে তাদের বন্দরের ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে। অপরদিকে হিলি সীমান্ত এলাকা দিয়ে যাতে কোনও ধরনের অপরাধী সীমান্ত অতিক্রম করে অবৈধভাবে ভারতে যেতে বা বাংলাদেশে না আসতে পারে সে জন্য বিজিবির পক্ষ থেকে নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। এছাড়াও সীমান্তের যেসব রুট দিয়ে চোরাকারবারিরা দু’দেশের মধ্যে যাতায়াত করতো সেগুলোও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তাছাড়া হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে পাসপোর্টধারী যাত্রী ছাড়া অন্য কারও প্রবেশের ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে বলে বিজিবি জানিয়েছে।

হিলি স্থলবন্দর শুল্কষ্টেশনের সহকারী কমিশনার মো.ফখরুল আমিন চৌধুরী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে জঙ্গি হামলার পরিপ্রেক্ষিতে হিলি স্থলবন্দরের আমদানি-রফতানি বাণিজ্যসহ বন্দরের সব কার্যক্রম সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে। এছাড়াও হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে বিপুল সংখ্যক দেশি-বিদেশি মানুষ যাতায়াত করে থাকে। সেখানে অনেক মানুষের জনসমাগম হয়ে থাকে, সেক্ষেত্রে তাদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে সীমান্তের শূন্যরেখার পাশে ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে দুটি সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।’

ফখরুল আমিন আরও বলেন, ‘বন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানিকৃত পণ্যের খালাস ভর্তি কার্যক্রম সম্পূর্ণ হওয়া স্থানে অনেক মানুষের সমাগম হয়ে থাকে এছাড়াও বন্দর দিয়ে কী ধরনের পণ্য আমদানি হচ্ছে আর খালাস করে যেসব ট্রাক পুনরায় ভারতে যাচ্ছে সেসব ট্রাকগুলোকে চেক করা সম্ভব হয় না। তাই সেসব কার্যক্রম দেখতে ক্যামেরার আওতার মধ্যে আনা হয়েছে। বর্তমানে ৮টি ক্যামেরা দিয়ে এসব কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। আগামীতে সিসি ক্যামেরার সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে। এতে করে একদিকে এসব সন্ত্রসী কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িতরা এসব স্থানে কিছু করার সাহস পাবে না। অপরদিকে সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে বন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানি কার্যক্রম পরিচালনার কারণে সঠিক পরিমাণে রাজস্ব পাওয়া সম্ভব হবে।’

হিলি স্থলবন্দর পরিচালনাকারী পানামা হিলি পোর্ট লিংক লিমিটেডের জনসংযোগ বিষয়ক কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন প্রতাব মল্লিক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘দেশের বিভিন্ন স্থানে জঙ্গি হামলা ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড ঘটায় হিলি স্থলবন্দরের নিরাপত্তা ব্যাবস্থা জোরদার করা হয়েছে। বন্দরের প্রতিটি প্রবেশ পথে বন্দরের নিজস্ব নিরাপত্তা রক্ষি বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। বন্দরের তিনটি গেটের মধ্যে দুইটি গেট দিয়ে লোকচলাচল একেবারে বন্ধ করা হয়েছে। শুধুমাত্র একটি গেট দিয়ে বন্দরের ভেতরে লোকচলাচলের ব্যাবস্থা করা হয়েছে। সেক্ষেত্রে বন্দরের ভেতরে প্রবেশের সময় প্রত্যেককে মেটাল ডিরেক্টর দিয়ে চেকআপ করে তাদের নাম ঠিকানা রেজিস্ট্রারে লিপিবদ্ধ করার পরেই কেবল তাদের বন্দরের ভেতরে প্রবেশ করতে দিচ্ছেন নিরাপত্তা রক্ষীরা। এছাড়াও বন্দরের ভেতরের সকল কার্যক্রম সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে।’

বিজিবি হিলি আইসিপি ক্যাম্প কমান্ডার সুবেদার মাহবুব আলম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সীমান্তে যেন কেউ কোনও ধরনের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড ঘটাতে না পারে এজন্য সীমান্তের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। সীমান্তের প্রত্যেকটি পয়েন্টে বিজিবি সদস্যদের সঠিকভাবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সীমান্ত এলাকায় নিয়মিত দায়িত্ব পালনের পাশপাশি সীমান্তে নজরদাড়ি বাড়াতে বাড়তি টহলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়াও সীমান্তে চলাচলরত লোকজনের উপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। হিলি সীমান্তের চেকপোস্ট গেট দিয়ে পাসপোর্টধারী যাত্রী ছাড়া অন্যদের চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।’

/এআর/