লালমনিরহাটে অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট চলছে

ধর্মঘটমহাসড়ক সংস্কারের দাবিতে লালমনিরহাট-বুড়িমারী পর্যন্ত সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ রেখে অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে মোটর মালিক-শ্রমিক সংগঠনগুলো। শুক্রবার (৫ মে) সকাল থেকে এ কর্মসূচি পালন করছেন মোটর মালিক-শ্রমিক ইউনিয়ন সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত নেতাকর্মী ও পরিবহন চালকরা।

এদিকে মহাসড়ক সংস্কারের দাবিতে মোটরগাড়ি ও বাস মালিক-শ্রমিক সংগঠনের ধর্মঘটের কারণে আন্তর্জাতিক বুড়িমারী স্থলবন্দর ও লালমনিরহাট থেকে যাত্রীবাহী ঢাকাগামী কোনও বাস ছেড়ে যায়নি। লোকাল যাত্রী বহনকারী বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। পণ্য পরিবহনের ট্রাক চলাচলও বন্ধ রয়েছে।

ধর্মঘটের কারণে পণ্য সরবরাহ কার্যক্রম বন্ধ থাকায় নিত্য পণ্যের সংকটে পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি আতঙ্কে আছেন সাধারণ ক্রেতারা। অপরদিকে যাত্রী দুর্ভোগও চরম আকার ধারণ করেছে।

লালমনিরহাট জেলা মোটর শ্রমিকলীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ বলেন, বড়বাড়ী-লালমনিরহাট-বুড়িমারী জাতীয় মহাসড়কের নামুড়ী থেকে পলাশী বাজার ও মহেন্দ্রনগর থেকে বড়বাড়ী বাজার পর্যন্ত মহাসড়ক দিয়ে গাড়ি চলাচল অনুপোযোগী। প্রতিদিন গাড়ি উল্টে পণ্যসামগ্রীসহ পরিবহনের ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে। কোনও চালকই ওই পথে যেতে রাজি হচ্ছে না। মহাসড়ক দ্রুত সংস্কারের জন্য এ কর্মসূচি চলছে।

মহাসড়ক চলাচলের জন্য স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ধর্মঘট চলবে বলে তিনি দাবি করেন।

লালমনিরহাট বাস মালিক সমিতির নেতা ও জেলা পরিষদের সদস্য সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘ঠিকাদার ও লালমনিরহাট সড়ক বিভাগের গাফিলতির কারণে কয়েক কিলোমিটার মহাসড়ক সংস্কার হচ্ছে না। রাস্তায় বড় বড় গর্তের কারণে প্রতিনিয়ত গাড়ি উল্টে গিয়ে দুর্ঘটনা ও বিভিন্ন ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে। গাড়ি চালকরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গাড়ি চালাতে চাচ্ছে না। এ কারণে আমরা বাধ্য হয়েই ধর্মঘটের কর্মসূচি দিয়েছি।’

রাস্তা চলাচলের জন্য স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত কোনও গাড়ি চলাচল করবে না বলে জানান তিনি।

এদিকে লালমনিরহাটে অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘটে বুড়িমারী স্থলবন্দর দিয়ে চলাচলকারী আন্তর্জাতিক পাসপোর্টধারী যাত্রীসহ আমদানি-রফতানি পণ্য নিয়ে বিপাকে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা।

লালমনিরহাট বাস-শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি বুলবুল আহমেদ বলেন, ‘আমরা কর্মবিরতি ও পরিবহন মালিকরা ধর্মঘট কর্মসূচি পালন করছে। বড়বাড়ী-লালমনিরহাট-বুড়িমারী জাতীয় মহাসড়কের নামুড়ী থেকে পলাশী বাজার ও মহেন্দ্রনগর থেকে বড়বাড়ী বাজার পর্যন্ত মহাসড়ক চলাচলের অনুপোযোগী। এসব রাস্তা দ্রুত সংস্কারের দাবিতে এ কর্মসূচি পালিত হচ্ছে।’

লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক আবুল ফয়েজ মো. আলাউদ্দিন খান ধর্মঘটের বিষয়ে কিছু জানেন না দাবি করে বলেন, ‘নামুড়ী থেকে পলাশী বাজার’ পর্যন্ত মহাসড়ক সংস্কারের কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য সড়ক বিভাগকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সামান্য রাস্তা খারাপের জন্য তো পরিবহন ধর্মঘটের কিছু দেখছি না।’

/এআর/