রবিবার সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত সাহেবগঞ্জ বাগদা ফার্ম ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটির আয়োজনে সাঁওতালরা গোবিন্দগঞ্জ-দিনাজপুর আঞ্চলিক মহাসড়কে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন।
মানববন্ধনে শতশত সাঁওতাল নারী-পুরুষ তীর-ধনুক, লাঠি, দেশীয় অস্ত্র ও ব্যানার, ফেস্টুন নিয়ে অংশ নেন। এর আগে, সাঁওতালরা মাদারপুর ও জয়পুরপাড়া থেকে পায়ে হেঁটে বিক্ষোভ মিছিল করে মানববন্ধনে এসে মিলিত হন।
মানববন্ধন চলাকালে বক্তব্য রাখেন সাহেবগঞ্জ বাগদা ফার্ম ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটির সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান আলী, ত্রাণ কমিটির সভাপতি বার্নাবাস টুডু, সাঁওতাল নেতা রাফায়েল হেমব্রম, সুচিন্তা হেমব্রম প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, গত বছরের ৬ নভেম্বর সাঁওতাল পল্লীতে হামলার ঘটনায় গত সাত মাস ধরে খোলা আকাশের নিচে খেয়ে না খেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন সাঁওতালরা। তাই দ্রুত তাদের বাপ-দাদার জমি ফেরত দেওয়ার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানান বক্তারা। একই সঙ্গে সাঁওতাল পল্লীতে হামলা, আগুন, লুটপাট ও গুলি করে তিন সাঁওতাল হত্যার ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতারসহ দ্রুত সুষ্ঠু বিচারের দাবিও জানানো হয়।
উল্লেখ্য, ১৮টি গ্রামেরেএক হাজার ৮৪০ দশমিক ৩০ একর জমি ১৯৬২ সালে অধিগ্রহণ করে আখ চাষের জন্য সাহেবগঞ্জ ইক্ষু খামার গড়ে তোলে রংপুর চিনিকল কর্তৃপক্ষ। সেই জমি অধিগ্রহণের চুক্তিভঙ্গের অভিযোগ তুলে দখল ফিরে পেতে আন্দোলনে নামে সাঁওতালরা। গত ৬ নভেম্বর চিনিকল কর্তৃপক্ষ জমির আখ কাটতে গেলে মিল কর্তৃপক্ষ, পুলিশ ও সাঁওতালদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এতে তিন সাঁওতাল নিহত ও আহত হন অনেকে। এরপর সাঁওতালদের বাড়িঘর আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয় পুলিশ।
এ ঘটনায় সাঁওতালদের পক্ষ থেকে দুটি ও পুলিশের পক্ষ থেকে গোবিন্দগঞ্জ থানায় একটি মামলা হয়। বর্তমানে মামলাগুলো আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। ৬ নভেম্বরের হামলার পর সাঁওতাল নারী-পুরুষরা পার্শ্ববর্তী মাদারপুর ও জয়পুরপাড়া সাঁওতাল পল্লীতে গিয়ে খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নেন। বর্তমানে তিন শতাধিক সাঁওতাল নারী-পুরুষ ঝুপড়ি ঘর ও ত্রিপলের তাবুর নিচে খেয়ে না খেয়ে মানববেতর জীবনযাপন করছেন।
/বিএল/