হিলি স্থলবন্দর দিয়ে গড়ে প্রতিদিন ভারত থেকে ১৫০ থেকে ১৭০ ট্রাক পাথর, চাল, পেঁয়াজ, খৈলসহ অন্যন্য পণ্য আমদানি হয়ে থাকে। বন্দরের ভেতর থেকে এসব পণ্য খালাস করে আমদানিকারকদের নিজস্ব গুদামে নিতে এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে এসব পণ্য পরিবহন করতে ৩শ থেকে সাড়ে ৩শ ট্রাকের প্রয়োজন হয়। কিন্তু সেখানে গড়ে প্রতিদিন ২শ থেকে আড়াই শ’র মতো ট্রাক পাওয়া যাচ্ছে।
হিলি স্থলবন্দরের ট্রাক বন্দোবস্তকারীরা জানান, হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে দেশে চাল, পাথর, পেঁয়াজের পর্যাপ্ত আমদানি হচ্ছে। আর এসব আমদানিকৃত মালামাল দেশের অভ্যন্তরে পাঠাতে প্রতিদিন গড়ে ৩শ থেকে সাড়ে ৩শ ট্রাকের চাহিদা থাকলেও বর্তমানে সেখানে বাংলা ট্রাকের সরবরাহ রয়েছে ২শ থেকে আড়াই শ’র মতো। এর ফলে গড়ে প্রতিদিন ১শ থেকে ১২৫ গাড়ি চাহিদার তুলনায় সংকট থাকছে।
তারা আরও জানান, মহাসড়কে যানজটের কারণে গাড়ি তেমন চলছে না। এছাড়াও উত্তরবঙ্গে লিচু, তরমুজ ও ধান ওঠার কারণে সেসব পণ্য পরিবহনে ট্রাকের চাহিদা বেড়ে গেছে। এর ফলে ট্রাকের ভাড়া যে পরিমাণ ছিল সে তুলনায় খানিকটা বেড়ে গেছে। যার ফলে হিলি স্থলবন্দরে ট্রাকের সংখ্যা একটু কমে গেছে। এছাড়াও পুলিশের চাঁদাবাজি ও ট্রাকের অ্যাঙ্গেল ও বাম্পারের কেস দেওয়ার কারণে কিছু ট্রাক মালিক মহাসড়কে ট্রাক বের করছেন না।এসব কারণে বন্দরে ট্রাকের সংখ্যা কমেছে।
ট্রাক চালকরা জানান, মহাসড়কে চলতে তাদের বিভিন্ন স্থানে পুলিশের চাঁদাবাজির শিকার হতে হচ্ছে। ড্রাইভিং লাইসেন্স থাকার পরেও সার্জেন্টকে এর জন্য পয়সা দিতে হয়। এর ওপর সেতুতে সিরিয়ালে দাঁড়াতে তার জন্য ট্রাক প্রতি ৫শ টাকা দিতে হয়। এর ওপর ট্রাকে পণ্যের ওজন বেশি হলে ট্রাক থেকে পণ্য কাটা ও ওজন করতে বাড়তি টাকা লাগছে। এসব কারণে সড়কে চলতে গাড়ির খরচ বেশি হয়ে যাচ্ছে এর ওপর সড়কে যানজটের কারণে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে। এতে করে সঠিক সময়ে ট্রাক না পৌঁছার কারণে বন্দরে ট্রাকের সংখ্যা কমেছে।
হিলি স্থলবন্দরের আমদানিকারক মামুনুর রশিদ ও ওবায়দুর রহমান বলেন, হঠাৎ করে বন্দরে ট্রাক সংকট দেখা দেওয়ার কারণে যে ভাড়া আগে ১৫ হাজার টাকা ছিল সেটি এখন ৩০ হাজার টাকায় ট্রাক ভাড়া নিতে হচ্ছে। এর কারণে ট্রাক ভাড়ার বাড়তি মাশুল গিয়ে পড়ছে পণ্যের ওপর। যার ফলে বাজারে পণ্যের দাম বেড়ে যাচ্ছে। এতে করে আমরাও তেমনভাবে পণ্য বিক্রি করতে পারছি না। এর ওপর চাহিদা অনুযায়ী সঠিক সময়ে ট্রাক ভাড়া না পাওয়ায় বন্দর থেকে সঠিক সময়ে পণ্য ছাড় নিতে না পেড়ে এবং সঠিক সময়ে দেশের বিভিন্ন গন্তব্য স্থানে পণ্য পাঠাতে না পেরে অনেক সময়ে পণ্য পচে আমাদের আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে হচ্ছে।
/এআর/