ঈদুল উল ফিতরে ঘরমুখো যাত্রীদের বাড়তি সুবিধা দিতে নীলফামারীর সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় ৮৫টি কোচ মেরামত করা হচ্ছে। এ কারণে কারখানার শ্রমিক -কর্মচারীসহ কর্মকর্তারা ব্যস্ত সময় পার করছেন।
তারা জানান, ঈদুল ফেতরের ছুটি শুরু হওয়ার আগেই কোচগুলো মেরামত করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হবে। তাই নির্ধারিত সময়ের পরও অতিরিক্ত সময় কাজ করছেন শ্রমিক কর্মচারীরা। রেলওয়ে কারখানার ২৯টি ওয়ার্কশপের শ্রমিকরা কোচে রং, ওয়েল্ডিং, মালামাল আনা নেওয়াসহ বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। যেন তাদের দম ফেলার সময় নেই, কারখানা ঘুরে এমন দৃশ্যই চোখে পড়ে।
কারখানা সূত্রে জানা যায়, রমজান মাসে কাজ শুরু হয় সকাল ৭টা থেকে দুপুর ১টা, আবার দুপুর দেড়টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত নিয়মিত। ৪টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ওভার টাইম।
কারখানার রং এর কাজে নিয়োজিত সহিদুল ইসলাম (৪৫) বলেন, এ কাজে অন্তত পাঁচশ’ শ্রমিক প্রয়োজন। সেখানে রয়েছে মাত্র ৪৫ জন। আমি চাকরিতে প্রথম এসে দেখি এ বিভাগে শতাধিক মানুষ কাজ করছেন। আর এখন মাত্র ৪৫ জন আছেন।
কারখানার (রং বিভাগ) সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী আরিফুর রহমান বলেন, ‘প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় বেশি কোচ মেরামত করা সম্ভব হচ্ছে না। এ বিভাগে ২২১ জন শ্রমিক ছিল। বর্তমানে কাজ করছে মাত্র ৬৭ জন। তাদের মধ্যে আবার চলতি বছর অবসরে যাবেন ৪ জন।
বিদ্যুৎ বিভাগের সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী শাহাজান আলী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সব সময় কারখানায় কাজ থাকে। তবে দুই ঈদে কাজের চাপ অনেক বেশি থাকে। কাজের লোক তো বাড়ছে না, দিন দিন কমছে। যান্ত্রিক ও বৈদ্যুতিক বিভাগে তিন হাজার ১৭১ জন শ্রমিক প্রয়োজন কিন্তু সেখানে রয়েছে মাত্র এক হাজার ২৬২ জন।’ সরকারের জনবল বাড়ানো বিষয়টি দ্রুত দেখা দরকার বলে মনে তিনি করেন।
কর্মকর্তরা বলছেন, জনবল সঙ্কট আর অর্থাভাবে কারখানার উৎপাদন ও মেরামত বিঘ্নিত হচ্ছে। এ ছাড়া প্রয়োজনীয় কাঁচা মাল ক্রয়ে প্রতি বছর ৩৯ কোটি টাকা প্রয়োজন হলেও বরাদ্ধ আসে মাত্র ২২ কোটি টাকা। এত কম টাকায় উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব না।
কারখানার বিভাগীয় তত্বাবধায়ক মুহাম্মদ কুদরত-ই খুদা বলেন, ‘এবার ঈদ-উল ফিতরে কারখানা থেকে ৮৫টি কোচ মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে ৩৫টি কোচের মেরামত শেষের দিকে। বাকীগুলোও নির্দৃষ্ট সময়ের মধ্যে শেষ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, ৮৫টি কোচের মধ্যে ৪৯টি ব্রডগেজ এবং ৩৬টি মিটার গেজ রয়েছে। এগুলি খুব তাড়াতাড়ি রেল কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
/জেবি/
আরও পড়তে পারেন: কুমির আতঙ্কে মাছ ধরতে যাচ্ছেন না জেলেরা