রমেকের বার্ন ইউনিটের এসিসহ সব ফ্যান নষ্ট: ইনফেকশনে ৭ রোগীর মৃত্যু

BURN PHOTO 1

উত্তরাঞ্চলের আগুনে পোড়া রোগীদের এক মাত্র চিকিৎসা কেন্দ্র রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের ৮টি এসির সবগুলোই নষ্ট। শুধু তাই নয় এ ওয়ার্ডের সিলিং ফ্যানগুলোও দীর্ঘদিন ধরে নষ্ট হয়ে আছে। ফলে এখানে ভর্তি হওয়া রোগীরা চরম দূর্ভোগে শিকার। গত এক মাসে অগ্নিদগ্ধ সাত রোগী ইনফেকশনের কারণে মারা গেছেন। তারপরও  এসি ও ফ্যানগুলো সচল করার কোনও উদ্যোগ নেই বলে অভিযোগ রোগীর স্বজনদের।

500

সরজমিন ঘুরে দেখা গেছে, হাসপাতালের জরুরি বিভাগের পাশেই রয়েছে বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগ। সেখানে সর্বাধুনিক চিকিৎসা সামগ্রী বসানো হয়েছে। পুরো ওয়ার্ডটি একেবারে বন্ধ। গত এক মাস ধরে একে একে ৮টি এসির সবগুলো নষ্ট হয়ে গেছে। আর ফ্যানগুলোও ২ মাসের বেশি সময় ধরে নষ্ট হয়ে আছে। সর্বশেষ যে এসিটি কোনও রকমে চলছিল সেটাও সোমবার থেকে বিকল হয়ে গেছে।
অনেকে হাত পাখা দিয়ে রোগীর শরীরে বিশেষ করে ক্ষত স্থানে বাতাস করার ব্যার্থ চেষ্টা করতে দেখা গেছে।

কর্তব্যরত এক নার্স নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, পোড়া রোগীদের প্রধান চিকিৎসা ঠাণ্ডা বাতাস দেওয়া। কেননা পোড়া রোগীর ক্ষত স্থানগুলো প্রচণ্ড জ্বালা পোড়া করে। তাই ওষুধের পাশাপাশি এসি এবং সিলিং ফ্যানের বাতাস খুবই কার্যকর।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ব্রাদার জানান, পোড়া রোগীদের দিনের পর দিন এভাবে থাকতে হচ্ছে। অতিরিক্ত গরমের রোগীদের ক্ষতস্থানে ইনফেকশন দেখা দিচ্ছে। ইনফেকশনের কারণে গত এক মাসে সাত রোগী মারা গেছে।

১৫ দিন ধরে চিকিৎসাধীন আছেন দিনাজপুরের ঘোড়া ঘাটের সালাম। তার শরীরের ৫০ ভাগ পুড়ে গেছে। তার স্ত্রী মরিয়ম বেগম জানান, পুরো ওয়ার্ডে কোনও জানালা নেই যে একটু বাতাস আসবে। তার উপর প্রচণ্ড গরম। এতে তার স্বামী আরও অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। ক্ষত স্থানগুলে প্রচণ্ড জ্বালা করছে।

৮ বছরের শিশু সাদেকের শরীরের ৫৫ ভাগ ঝলসে গেছে। সারা শরীরের  ব্যান্ডেজ। ক্ষত স্থানের জ্বালায় ছটফট করছিল।

BURN PHOTO 5

তার মা মমতা বেগম জানান, আমার মতো সুস্থ মানুষই গরমে টিকতে পারছে না। সেখানে এই বাচ্চা কিভাবে থাকে। এসিগুলো চালু থাকলে বাচ্চাটার যন্ত্রণা একটু কম হতো। এখানে এসে কী লাভ হলো? এখন তো ক্ষত স্থানগুলো দিয়ে পুজ বের হচ্ছে। নার্স বলেছে ইনফেকশন হয়েছে।

এছাড়াও ওয়ার্ডের সবগুলো বেসিনের কল নষ্ট। পানি বের হয় না। ল্যাট্রিনের লাইট নষ্ট বলে অভিযোগ করেন রোগীর স্বজনরা।

পুরো ওয়ার্ডের এসি আর ফ্যান নষ্ট থাকলেও কর্তব্যরত ডাক্তার ও নার্সরা যেখানে বসেন সেখানকার স্ট্যান্ড ফ্যান আর সিলিং ফ্যান ঠিক আছে। এছাড়াও বিভাগীয় প্রধান ডা. মারুফুল ইসলাম ও রেজিস্টার ডা. আজমল হোসেনের রুমের ফ্যানও দুটি সচল আছে।

BURN PHOTO 3

বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের রেজিস্টার ডা.আজমল হোসেন জানান, সব এসি আর ফ্যান বিকল থাকার বিষয়টি হাসপাতালের পরিচালককে জানানো হয়েছে। তিনি পদক্ষেপ নেবেন।

এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান,এই ওয়ার্ডে এসি থাকাটা বাধ্যতামূলক কারণ পোড়া রোগীদের জন্য এটা খুবই প্রয়োজন। তবে ইনফেকশনের কারণে ৭ রোগীর মারা যাওয়ার বিষয়টি ঠিক নয়।

অপরদিকে হাসপাতালের পরিচালক ডা. মউদুদ হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এক মাস আগে তিনি এখানে যোগদান করেছেন। সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। কবে নাগাদ এসব সচল করা সম্ভব হবে জানতে চাইলে তিনি সুনিদৃষ্ট কিছুই বলতে পারেননি।

/জেবি/

আরও পড়তে পারেন: ‘লংগদুর ঘটনায় আ.লীগের ওপর দোষ চাপানোর অপচেষ্টা চলছে’