এসময় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিষয়ক সাবেক এই প্রতিমন্ত্রী বিজিবি ও পুলিশকে সতর্ক হয়ে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান এবং তাদের দ্বারা যাতে এলাকার কেউ হয়রানির শিকার না হন সে বিষয়ে লক্ষ্য রেখে দহগ্রামের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ফিরিয়ে আনার আহবান জানান।
এর আগে তিনি স্থানীয় দহগ্রাম ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের কাছে বিজিবির ল্যান্স নায়েক সুমন মিয়া কিভাবে তিস্তা নদীতে নিখোঁজ হন এবং কিভাবে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয় সে বিষয়ে স্থানীয়দের কাছে অবগত হন।
এসময় অনেকেই পুলিশ ও বিজিবির বিরুদ্ধে গরু চোরাচালান ব্যবসায় চাঁদাবাজি বাণিজ্যের অভিযোগ করেন।
এ অভিযোগের প্রেক্ষিতে সাবেক এই প্রতিমন্ত্রী বিজিবির উদ্দেশে বলেন, ‘আপনারা আইন হাতে তুলে নেবেন না। দেশে মার্শাল ল’ নেই যে যাকে খুশি তাকে ধরে নিয়ে যাবেন। যাদের আটক করেছেন তাদেরকে অবিলম্বে ছেড়ে দিন। অথবা তাদেরকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করুন। নিরপরাধ মানুষকে আটক করার অধিকার আপনাদের কে দিয়েছে?’
বিজিবি’র উদ্দেশে জেলা আওয়ামী লীগের এই সভাপতি আরও বলেন, ‘দহগ্রামের লোকজন নির্বিঘেœ চলাচল করবে। কেন তাকে জাতীয় পরিচয়পত্র দেখিয়ে চলাচল করতে হবে? এসব বন্ধ করতে হবে। কারও কোন অপরাধ থাকলে আদালত বা থানায় মামলা করবেন। পুলিশ ঘটনা তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। আপনারা দহগ্রামে আর কোন মানুষকে আটক করবেন না। আতঙ্ক ছড়াবেন না। এটা মগের মুল্লুক নয়।’
অনুষ্ঠান শেষে এবিষয়ে বিজিবির জেলা কমান্ডের সঙ্গে কথা বলতে তিনি লালমনিরহাট জেলা শহরের উদ্দেশ্যে রাতেই রওনা হন।
দহগ্রাম ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের আহবায়ক সাবেক ইউপি সদস্য সাফিউল ইসালাম বাবলুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন পাটগ্রাম উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ারুল ইসলাম নাজু ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক উপজেলা চেয়ারম্যান রুহুল আমিন বাবুল, দহগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল হোসেন, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা হাবিবুর রহমান, স্থানীয় ব্যক্তি খলিলুর রহমান, আব্দুল জব্বার, বিজিবির হাতে আটক থাকা সাইবালির মা গোলেমা বেগম, চৌকিদারের স্ত্রী হোসনে আরা বেগম প্রমূখ।
উল্লেখ্য, গত ২৬ জুন ঈদুল ফিতর রাতে লালমনিরহাট-১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের দহগ্রাম ক্যাম্পে সংযুক্ত থাকা রংপুর-৬১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের ল্যান্স নায়েক সুমন মিয়াসহ ৪ সদস্যের একটি টহল দল গরু চোরাচালানের গোপন সংবাদ পেয়ে দহগ্রাম সীমান্তের তিস্তা নদীর আবুলের চরে গিয়ে অবস্থান নেন। পরে গরু দেখতে পেয়ে তা আটকের চেষ্টা করতে টহল দলের অপর ল্যান্স নায়েক টুটুল মিয়া তিস্তা নদীতে নামেন। কিন্তু টুটুলকে ডুবে যেতে দেখে তাকে বাঁচাতে তিস্তায় নামেন বিজিবির ল্যান্স নায়েক সুমন মিয়া।এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। পরদিন ভারতের অভ্যন্তরে তার লাশ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় পাটগ্রাম থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করা হয়েছে। এ মামলায় এখনও কাউকে গ্রেফতার দেখাতে পারেননি।
/টিএন/আপ-এআর/