উজানের ঢল ও আর টানা বর্ষণে গাইবান্ধার বন্যা পরিস্থিতি আরও অবনতি হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে ফুলছড়ি পয়েন্টে বিপদসীমার ১৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন অন্তত ৭০ হাজার মানুষ। চারদিন ধরে এসব মানুষ পানিবন্দি থাকলেও তারা সরকারি বা বেসরকারি পর্যায়ে কোনও ত্রাণ পায়নি। খাদ্য অভাবে গবাদি পশু গরু-ছাগল ও হাঁস-মুরগি নিয়ে বিপাকে পড়েছেন বানভাসী মানুষরা।
নতুন করে প্লাবিত হয়েছে জেলা সদর, সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি ও সাঘাটা উপজেলার চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চলের আরও ১০ গ্রাম। এ নিয়ে চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চলের অনন্ত ৫০ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বন্যা কবলিত চার উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকার ঘরবাড়ি, বাজার ও রাস্তাঘাটে হাঁটু থেকে কোমর পর্যন্ত পানিতে তলিয়ে আছে। বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলের শতশত বিঘা জমির পাট ক্ষেত, আমন বীজ তলা, রবিশস্যসহ বিভিন্ন ফসলও পানিতে তলিয়ে আছে।
জলাবদ্ধতার ফলে ইতোমধ্যে চরাঞ্চলের ঝানঝাইড়, গলনা ও কটকগাছা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণাসহ ৪৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। বন্ধ হয়েছে চরাঞ্চলের ১৫টি বাজার ও বাজারের দোকানপাঠ।
পানিবন্দি আলম মিয়া, সাদেক আলী, ফুল মিয়া ও আনোয়ারা বেগমের অভিযোগ, চার দিন ধরে তারা পানিবন্দি হয়ে আছেন। খাবার ও বিষুদ্ধ পানির সংকটে আছেন। এখন পর্যন্ত সরকারি বা বেসরকারিভাবে দেওয়া হয়নি ত্রাণ সহায়তা। এমনকি কেউ তাদের খোঁজখবরও নেয়নি।
ঘরবাড়িতে পানি ওঠায় চরম ভোগান্তির শিকার বানভাসীরা ছুটছেন নিরাপদ আশ্রয়ে। ফুলছড়ির বালাসী ঘাটের রেলের জায়গা, বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধসহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নিতে শুরু করেছেন।
জেলা প্রশাসক গৌতম চন্দ্র পাল বলেন, বন্যা মোকাবিলার সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বন্যা কবলিত মানুষদের তালিকা তৈরির কাজ করছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও উপজেলা প্রশাসন। তালিকা অনুযায়ী তাদের মধ্যে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হবে।
গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান বলেন, রবিবার ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীর পানি বিপদসীমার ১৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। সোমবার সকালে তা আরও ৩ সেন্টিমিটার বেড়েছে।
/এসটি/
আরও পড়ুন: তিস্তায় পানি বিপদসীমার ৩২ সেন্টিমিটার ওপরে, চরাঞ্চল প্লাবিত