তিস্তার পানি বিপদসীমার ১৪ সেন্টিমিটার ওপরে, এখনও পানিবন্দি ১৫ হাজার পরিবার

Nilphamari-Pic-3ভারি বর্ষণ আর তিস্তা ব্যারেজের উজানের পাহাড়ি ঢলসহ ভারতের গজলডোবা ব্যারেজের বেশ কিছু স্লুইচ গেট (জলকপাট) খুলে দেওয়ায় ডালিয়া পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ১৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সোমবার (১০ জুলাই) ডালিয়া পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ৩২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। এদিকে বন্যায় চরাঞ্চলের প্রায় ১৫ হাজার পরিবার এখনও পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে।

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্রের পানি পরিমাপক উপ-সহকারী প্রকৌশলী আমিনুর রশিদ ও গেজ রিডার নুর ইসলাম বলেন, আজ মঙ্গলবার সকাল ৯টায় ওই পানি প্রবাহ কমে ডালিয়া পয়েন্টে ১৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।’

জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছে, তিস্তার বন্যার কারণে চর ও চর গ্রামের হাজার হাজার পরিবার বিশুদ্ধ পানি ও খাদ্য অভাবে পড়েছে। তারা মনে করেন জরুরিভাবে শুকনো খাবার বিতরণ করা প্রয়োজন। এদিকে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সার্বক্ষণিক তদারকি করছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা কর্মচারীরা।

সূত্র জানায়, এসব এলাকায় বানের পানির তোরে শত, শত কাঁচা ঘরবাড়ি ভেঙে পড়েছে। মানুষজন তিস্তার ডানতীরে প্রধান বাঁধে আশ্রয় নিয়েছে।
ভাষানির চরের বাসিন্দা সহিদুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, গ্রামের প্রতিটি পরিবার কোমর পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ঘরের ভেতর দিয়ে বন্যার পানি বয়ে যাচ্ছে।

এ ছাড়া লালমনিরহাট জেলার হাতীবান্ধা ও কালিগঞ্জ উপজেলার তিস্তা বেষ্টিত চর ও চরগ্রাম গুলো প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি মানুষগুলোকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। টেপাখড়িবাড়ি ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম শাহীন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

খালিশা চাপানী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান সরকার বলেন, পূর্ব বাইশ পুকুর গ্রামের ওপর দিয়ে বন্যার পানি বয়ে যাচ্ছে।

খড়িবাড়ী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম লিখন বলেন, কিশামত ছাতনাই গ্রামের বসবাসরত মানুষের বসতবাড়ি কোমর পানি থেকে কিছুটা কমে এসেছে।

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ভারি বর্ষণ আর ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

এদিকে সৃষ্ট বন্যাদুর্গত এলাকা পরিদর্শন করেছেন নীলফামারী জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ খালেদ রহীম ও ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল করিম।

জেলা প্রশাসক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, বন্যাদুর্গতদের তালিকা তৈরি করে ৫০ হাজার টাকা ও ২০ মেট্রিকটন চাল বিতরণ করা হয়েছে।
/এআর/