বগুড়ায় বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত, শনিবার যাচ্ছেন ত্রাণমন্ত্রী

Bogra-14-07-17-Picture-06বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলায় যমুনা নদীর পানি দু’দিন না বাড়লেও বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। শুক্রবার সকালে পানি বিপদসীমার ৫৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। তবে চরাঞ্চলে নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে। গত তিনদিনে ভাঙনে তিন ইউনিয়নে অন্তত ৫১৩ পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়েছে। এদের অনেকের ঘরবাড়ি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে।

এদিকে, বন্যা পরিস্থিতি দেখতে ও সমন্বয়ের জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া শনিবার বগুড়ায় যাচ্ছেন। তিনি সারিয়াকান্দিতে ত্রাণ বিতরণ ও জেলায় সমন্বয় কমিটির সভায় উপস্থিত থাকবেন। শুক্রবার বিকালে জেলা প্রশাসক নুরে আলম সিদ্দিকী তার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, গত কয়েকদিনের বন্যায় সারিয়াকান্দির ৯ ইউনিয়ন, সোনাতলার ৩ ইউনিয়ন ও ধুনটের ২ ইউনিয়ন জলমগ্ন হয়েছে। মোট ৯৩ গ্রামের ১৭ হাজার ৪০ পরিবারের অন্তত ৮০ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। আশ্রায়ণ কেন্দ্র ও বাঁধে ৪ হাজার ২৯০ পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। ৭১টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৮টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ২টি মাদ্রাসা ও একটি কলেজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ৫ হাজার ৮৫ হেক্টর ফসলি জমি ডুবে গেছে। ১০০টি পুকুর তলিয়ে গেছে। প্রায় ৪০০ মেট্রিক টন খড় ও ৪৬০ মেট্রিক টন ঘাস নষ্ট হয়েছে। এখন পর্যন্ত ৬০ কিলোমিটার কাঁচা ও ৫ কিলোমিটার পাকা রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দপ্তর ভিত্তিক ক্ষতির পরিমাণ নিরূপন চলছে।

বন্যা মোকাবেলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ পর্যন্ত সরকারের পক্ষে ৪৫০ মেট্রিক টন চাল, নগদ ১২ লাখ টাকা, ২ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার এবং অন্যান্য খাবার বরাদ্দ হয়েছে। বরাদ্দ করা চাল, নগদ টাকা, শুকনো খাবার ও অন্যান্য ত্রাণসামগ্রী বিতরণের কাজ চলছে। সারিয়াকান্দি ও ধুনটে ৪০টি নলকুপ ও ৯০টি ল্যাট্রিন বসানো হয়েছে। পানি বিশুদ্ধ করতে ৭ হাজার ৮০০ ট্যাবলেট বিতরণ করা হয়েছে। বন্যা কবলিত ১৪ ইউনিয়নের ১৩টি মেডিক্যাল ও ৬টি ভ্যাটেনারি মেডিক্যাল টিম কাজ করছে। তিন উপজেলায় ৩৫ কোটি ১১  লাখ ৬৬ হাজার ৪০০ টাকা মূল্যে ৬৬ হাজার ৩১১ হেক্টর জমির উৎপাদিত ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক পরিবারের সংখ্যা ২৪ হাজার ২৫টি।

জেলা প্রশাসক আরও বলেন, বন্যা দুর্গতদের আগামী ৬ মাসের মধ্যে কোনও ঋণের কিস্তি বা সুদ পরিশোধ বন্ধে এনজিও ব্যুরোসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে চিঠি দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া চন্দনবাইশা ইউনিয়নে দুর্গতদের ২০ কেজির স্থলে ১৫/১৬ কেজি চাল দেওয়ায় ট্যাগ অফিসারকে প্রত্যাহার এবং তদন্তে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রায়হানা ইসলাম ছাড়াও সরকারের বিভিন্ন দফতরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

/বিএল/