‘প্রধানমন্ত্রীকে বরখাস্ত করলে বাংলাদেশে বিচারপতির লাশ খুঁজে পাওয়া যাবে না’

প্রধানমন্ত্রীকে বরখাস্ত করলে বাংলাদেশে বিচারপতির লাশও খুঁজে পাওয়া যাবে না, বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। বৃহস্পতিবার দুপুরে রংপুর টাউন হলে রংপুর মহানগর ও জেলা বিএনপি আয়োজিত নতুন সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন।

বিএনপির সদস্য সংগ্রহ অনুষ্ঠানে গয়েশ্বরসহ অন্য নেতারাপ্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘পাকিস্তানে ভালো গণতন্ত্র নেই, তারপরও ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় একজন প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির তদন্ত হয়। তদন্তে দোষি প্রমাণিত হওয়ার পর নওয়াজ শরীফকে পদত্যাগ করতে হয়। অথচ বাংলাদেশে তা হলে বিচারপতির লাশও খুঁজে পাওয়া যাবে না।’

গয়েশ্বর বলেন, ‘আগামী নির্বাচন খালেদা জিয়ার নেতৃত্বেই হবে। তাকে মাইনাস করে দেশে কোনও নির্বাচন করা আর বোকার স্বর্গে বাস করা একই কথা। এখন নির্বাচন করার জন্য যে তড়িঘড়ি করা হচ্ছে, প্রতিদিন কোর্টে তলব করা, এসব আর বেশিদিন চলতে দেওয়া হবে না।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আইনের কোনও তোয়াক্কা করছেন না অভিযোগ করে বিএনপির এ নেতা বলেন, ‘সে কারণে বিএনপির আগামীতে আপনাদের তোয়াক্কা করে আন্দোলন করবে না। বিনা ভোটের এই সরকার এক বিশেষ শক্তির বলে আবার নতুন করে ক্ষমতায় যাওয়ার পাঁয়তারা করছে। কিন্তু এবার জনগণ প্রয়োজনে ভোটকেন্দ্র পাহারা দিয়ে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেবে।’

দেশে আইনের শাসন নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘দুই মন্ত্রী সাজাপ্রাপ্ত হওয়ার পরেও তাদের মন্ত্রিত্ব থেকে সরানো হয়নি। এই সরকার আইনের কোনও তোয়াক্কা করে না। তারা আইনের অপব্যবহার করে বিদেশে হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার করেছে।’

গয়েশ্বর রায় বলেন, ‘আজ (বৃহস্পতিবার) ঢাকা থেকে বিমানযোগে রংপুরে আসার আগে অনলাইন পত্রিকার মাধ্যমে জানতে পারলাম সরকার সব গোয়েন্দা সংস্থাকে তদারকি করতে নির্দেশ দিয়েছে কারা কারা বিএনপিতে যোগ দেয়, নতুন সদস্যপদ গ্রহণ করে তা জানতে। কারণ আওয়ামী লীগ ভয়ে আছে তাদের দলের নেতাকর্মীরা বিএনপিতে যোগ দেয় কি না?’

এর আগে গয়েশ্বর রায় সভা স্থলে এসে পৌঁছলে দলের নেতাকর্মীরা তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। মহানগর বিএনপি সভাপতি মোজাফফর হোসেনের সভাপতিত্বে সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম মিজু, জেলা বিএনপির সভাপতি সাইফুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক রইছ আহমেদসহ প্রমুখ।

/এমও/