জলঢাকায় শিক্ষিকার বেতন ভাতা নিয়ে হয়রানির অভিযোগ

নীলফামারীনীলফামারীর জলঢাকায় সদ্য জাতীয়করণভুক্ত পৌরসভা কলেজিয়েট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মৃত শিক্ষিকা অঞ্জলী রাণীর স্বজনকে বেতন ভাতা না দিয়ে হয়রানি করার অভিযোগ উঠেছে।

অঞ্জলীর স্বামী স্বপন কুমার অভিযোগ করেন, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহজাহান আলী মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে ওই শূন্য পদে অন্যজনকে নিয়োগের ষড়যন্ত্রে বেতন পরিশোধে হয়রানি করছেন।

অভিযোগ মতে, ২০১২ সালের ২১ মার্চ ওই বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষিকা পদে যোগদান করেন অঞ্জলী রাণী রায়। ২০১৩ সালের ৮ অক্টোবর ঘোষিত প্রজ্ঞাপনে জাতীয়করণ হয় বিদ্যালয়টি। সেখানে কর্তব্যরত থেকে ২০১৫ সালের ১২ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করেন অঞ্জলী রাণী।

স্বপন কুমার রায় জানান, বিদ্যালয়টি সরকারিকরণ ঘোষণার পর ২০১৬ সালের ৩০ জুন শিক্ষক জাতীয়করণের খসড়া এবং একই সালের ১ ডিসেম্বর চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ হয়। ওই চূড়ান্ত তালিকার (রংপুর বিভাগে) ২৬৬ নম্বর ক্রমিকে সহকারী শিক্ষক পদে তার স্ত্রী অঞ্জলী রাণীর নাম প্রকাশ হয়।

তিনি আরও জানান, বিদ্যালয়ের বাকি তিনজন শিক্ষক ২০১৩ সালের ৮ অক্টোবর থেকে তাদের সরকারি বেতন ভাতা উত্তোলন করেছেন। কিন্তু তার স্ত্রীর পক্ষে তিনি বেতন ভাতা উত্তোলনের আবেদন করলে বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে সময় ক্ষেপন করছেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহজাহান আলী। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দিয়েও তার মৃত স্ত্রীর পাওনা পরিশোধে অস্বীকার করেছেন তিনি।
স্বপন কুমার আরও জানান, মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে তার স্ত্রীর ওই পদে জয়নুল আবেদীন নামে একজনকে নিয়োগের পায়তারা করছেন শাহজাহান আলী। এছাড়া ২০১৬ সালের ২৮ ডিসেম্বর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিবের কক্ষে (কক্ষ নং-৬১৮) শুনানি শেষে সেখানেও তার স্ত্রী অঞ্জলী রাণী বৈধ শিক্ষক বলে প্রমাণিত হন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সেখানে তিনজন শিক্ষক কর্মরত আছেন। বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা জানান, ২০১৫ সালের ১১ অক্টোবর পর্যন্ত কর্মরত ছিলেন শিক্ষিকা অঞ্জলী রাণী। তার মৃত্যুতে পদটি শূন্য আছে।

প্রধান শিক্ষক ময়েন উদ্দিন বলেন, চারজন শিক্ষকের মধ্যে ২০১৫ সালের ১২ অক্টোবর সহকারী শিক্ষক অঞ্জলী রাণীর মৃত্যু হলে পদটি শূণ্য হয়। বর্তমানে তিনজন শিক্ষক নিয়ে বিদ্যালয়টি চলছে।

তিনি আরও বলেন, ‘অঞ্জলী রাণী বৈধ শিক্ষক হলেও তার মৃত্যুর কারণে বেতন ভাতা তুলতে পারেননি এখনও। এ ব্যাপারে তার স্বামী পাওনা বেতনভাতা উত্তোলনের জন্য উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবরে আবেদন করেন। মৃত অঞ্জলী রাণী রায়ের বিভিন্ন কর্মকা-ের প্রমানসহ এসএমসির মতামত চেয়ে চলতি বছরের ২৯ মে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আমাকে একটি পত্র পাঠান।
এরই প্রেক্ষিতে, আমি ৪ জুলাই যাবতীয় প্রমানসহ প্রতিবেদন দাখিল করি। সেটি দাখিলে পর তিনি আবার শিক্ষক গেজেট হওয়ার পূর্ব ও পরের এসএমসির প্রত্যয়ন চেয়ে পুণরায় প্রতিবেদন দাখিলের আদেশ দেন।
তিনি আরও বলেন, পুরোনা কমিটির সভাপতি আবেদ আলী ওই কর্মকর্তারসাথে যোগসাযোশ করে তার জামাতা জয়নুল আবেদীনকে ওই পদে নিয়োগের পায়তারা করছেন।’

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহজাহান আলী বলেন,‘এই বিদ্যালয়ে চারজন শিক্ষক কর্মরত আছেন। সেখানে অঞ্জলী রাণী নামের একজন শিক্ষকের অনেক আগে পদত্যাগের কথা শুনেছি। তার নাম গেজেটে আসায় বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।‘

তবে সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা বজলুর রশিদ বলেন,‘একজন শিক্ষকের মৃত্যু হওয়ায় সেখানে বর্তমানে তিনজন শিক্ষক কর্মরত আছেন।’

এদিকে, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জয়নুল আবেদীনসহ চারজন শিক্ষক দাবি করলেও বিদ্যালয়ে জয়নুল আবেদীন নামে কোনও শিক্ষক নেই।

এ ব্যাপারে জয়নুল আবেদীন বলেন,‘অঞ্জলী রাণী রায় পদত্যাগ করায় অত্র বিদ্যালয়ে ওই পদে আমি যোগদান করেছি।‘

এ ব্যাপারে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দিলীপ কুমার বণিক বলেন,‘বিষয়টি নিয়ে এর আগেও মন্ত্রণালয়ে তদন্ত অনুষ্ঠিত হয়েছে। আরও তদন্ত চলছে। অঞ্জলী রাণী বেতন ভাতার হকদার হলে নিশ্চিয়ই তার ন্যায্য পাওনা ছেলে-মেয়েরা পাবেন।’

/এআর/