কিন্তু ১০দিন পরও ঘর না পাওয়ায় ওই ভিক্ষুক সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের কাছে বিচার দিলে বিষয়টি ফাঁস হয়ে যায়। গত ৩০ জুলাই এ ঘটনা ঘটে।
এদিকে, ছাগল নেওয়ার কথা স্বীকার করলেও তা কিনে নিয়েছেন বলে দাবি করেছেন কাশিপুর ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আলী হোসেন। তিনি বলেন, ‘আসছে ঈদে কোরবানি দেওয়া জন্য চার হাজার টাকায় ওই ভিক্ষুকের কাছে আমি ছাগলটি কিনে নিয়েছি।’
এক প্রশ্নের জবাবে ওই ইউপি সদস্য বলেন, ‘ছাগল কি কখনও ঘুষ নেওয়া যায়? আমারে বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হচ্ছে, আপনারা যাচাই করে লেখেন।’
সম্প্রতি ‘যার জমি আছে, ঘর নাই’ আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর আওতায় সরকারি উদ্যোগে হতদরিদ্রদের মাঝে এসব ঘর তৈরি করে দেওয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
ভিক্ষুক আজাহার আলী জানান, তার তিন শতক জমিতে কোনও ঘর না থাকায় তিনি ওই ইউপি সদস্যের কাছে যান। কিন্তু ইউপি সদস্য টাকা দাবি করলে তিনি অপারগতা প্রকাশ করেন। পরে ওই সদস্য তাগাদা দিয়ে বলেন যে, সময়মতো টাকা দিতে না পারলে বরাদ্দকৃত ঘর পাওয়া যাবে না। এর দুইদিন পর ওই ইউপি সদস্য তার বাড়িতে গিয়ে চার হাজার টাকার বদলে তার পোষা ছাগল নিয়ে আসেন। বাকি এক হাজার টাকা দ্রুত পৌঁছে দেওয়ার কথাও বলেন।
ভিক্ষুক আজাহার আলী বলেন, ‘ভিক্ষা করি মোর জীবন চলে। কষ্ট করি দুইটা ছাগল পোষং। তার একটা খাঁসি ছাগল ঘর দেওয়ার নাম করি আলী হোসেন মেম্বার (ইউপি সদস্য) নিয়া গেইচে। কিন্তু ১০ দিন পার হইলেও ঘরও নাই, ছাগলও ফেরত দেয় নাই।’
এ ব্যাপারে ইউপি সদস্য আলী হোসেন বলেন, ‘ঘর দেওয়ার নাম করে ছাগলটি নেওয়া হয়নি। ভিক্ষুক আজাহার আলীর কাছ থেকে ছাগল কিনেছি।’
প্রকল্পের ঘর প্রত্যাশীদের তালিকায় ভিক্ষুক আজাহার আলীর নাম আছে কিনা, জানতে চাইলে ওই ইউপি সদস্য বলেন, ‘তার নাম আছে কিন্তু তার নাম দেওয়ার জন্য কোনও টাকা-পয়সা দাবি করিনি।’
এ প্রসঙ্গে কাশিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলজার হোসেন বলেন, ‘ওই ভিক্ষুক আমার কাছে মৌখিক অভিযোগ করেছে। আমি কুড়িগ্রামে মিটিংয়ে যাচ্ছি। ফিরে বিষয়টি সমাধান করা হবে।’
অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করে ফুলবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দেবেন্দ্র নাথ ঊরাঁও বলেন, ‘বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। আমি ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যানকে বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য বলেছি। সত্যতা পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
/বিএল/