জেলার কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৭৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
এদিকে টানা বৃষ্টিপাতের ফলে রাজারহাট উপজেলার ছিনাই ইউনিয়নের কালুয়া এলাকায় ধরলা ডান তীর রক্ষা বাঁধের ঢাল দেবে যাওয়ায় দ্রুত মেরামতের কাজ শুরু করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার যাত্রাপুর ও পাঁচগাছী ইউনিয়ন, উলিপুর উপজেলার বেগমগঞ্জ ইউনিয়নসহ নদী তীরবর্তী এলাকাগুলোর মানুষ আবারও বন্যার হুমকিতে পড়েছে। রাত-দিন চলমান বৃষ্টিতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। শ্রমজীবী খেটে খাওয়া মানুষ কাজে বের হতে পারছে না। গবাদি পশু নিয়ে বিপাকে পড়েছে জেলার হাজারও পরিবার।
সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আইয়ুব আলী সরকার জানান, তার ইউনিয়নে ব্রহ্মপুত্রের চরাঞ্চলে পানি বৃদ্ধি পেয়ে ঘরবাড়িতে ঢুকে পড়ার উপক্রম হয়েছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে যেকোনও মুহূর্তে বন্যা দেখা দিতে পারে।
একই ধরনের পরিস্থিতির বর্ণনা দিয়ে বন্যার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন উলিপুর উপজেলার বেগমগঞ্জ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বেলাল হোসেন।
তবে জেলা প্রশাসন বলছে, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রয়েছে। বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে তা মোকাবিলার যাবতীয় প্রস্তুতি প্রশাসনের রয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো.শফিকুল ইসলাম জানান, সবকটি নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। এভাবে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে আগামী ২৪ ঘণ্টায় ধরলা নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করাসহ জেলার নদী তীরবর্তী এলাকায় বন্যা দেখা দিতে পারে।
কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মোহাম্মদ ফেরদৌস খান বলেন, আমরা সার্বক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। যেকোনও ধরনের বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে বলে জানান জেলা প্রশাসক।
/বিএল/