দ্বিতীয় দফা বন্যায় নীলফামারীর ডিমলা ও জলঢাকা উপজেলার অন্তত ৩৫ গ্রামের ২ লক্ষাধিক মানুষ বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে। ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে গেছে। দুর্গত এলাকায় বিশুদ্ধ পানি, খাদ্য বিশেষ করে শিশু খাদ্যের সংকট দেখা দিয়েছে। চারদিক প্লাবিত থাকায় কর্মজীবী লোকজন কর্মহীন হয়ে পড়েছে। পাল্লা দিয়ে বাড়ছে নিত্যপণ্যের দাম। ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
ডিমলার খালিশা চাপানী ইউনিয়নের ছোটখাতা গ্রামের আশরাফ আলী বলেন, ‘নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ছোটখাতা গ্রামের সাত শতাধিক বাড়ি তলিয়ে গেছে। বড়রা শুকনা খাবার খেয়ে দিন কাটালেও শিশুদের খাবার নিয়ে সংকটে পড়েছেন বানভাসীরা।’
একই গ্রামের সাহিদা বেগম বলেন,‘নদীর পানি বাড়ায় বৃস্পতিবার (১০ আগস্ট) রাত থেকে রান্না করতে পারিনি। বাড়ি তলিয়ে যাওয়ায় স্কুলে আশ্রয় নিয়েছি। শুক্রবার ছেলে মেয়েদের নিয়ে শুকনা খাবার খেয়ে দিন কাটিয়েছি। চারদিন পর সরকারের পক্ষ থেকে ১০ কেজি করে চাল দিয়েছে।’
খালিশা চাপানী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান বলেন,‘তিস্তাবেষ্টিত এলাকার প্রায় ৮টি সুরক্ষা বাঁধ বিধ্বস্ত হয়ে গ্রামগুলোতে পানি প্রবেশ করেছে। আশ্রয় কেন্দ্র না থাকায় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নিচ্ছেন বানবাসী লোকজন।’
তিনি বলেন, ‘বড়দের খাদ্য সংকটের পাশাপাশি শিশু খাদ্য ও সুপেয় পানির অভাব দেখা দিয়েছে। এছাড়া নানা রোগ বালাইও ছড়িয়ে পড়েছে। পাশাপাশি গো খাদ্যের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।’
পূর্ব ছাতনাই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ খান বলেন,‘বুধবার রাত থেকে নদীর পানি বাড়তে শুরু করে। বন্যার পানি উঠা-নামার ফলে ইউনিয়নের ঝাড়শিংহেশ্বর,পূর্বছাতনাই গ্রামের দুই হাজার পরিবার বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছে। ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে আমন ক্ষেতের। পরপর দুবার বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এসব এলাকার মানুষের শত শত একর পুকুরের মাছ বানের পানিতে ভেসে গেছে।’
পানি উন্নয়ন বোর্ড ডালিয়া ডিভিশনের বন্যাপূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ সূত্র জানায়, উজানের ঢল ও ভারি বর্ষণে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বুধবার নদীর (বন্যার) পানি বাড়তে থাকে। শনিবার (১২ আগস্ট) রাত ১০টায় রেড অ্যালার্ট জারি করে তিস্তা অববাহিকায়। তবে সোমবার (১৪ আগস্ট) তিস্তার পানি বিপদসীমার ৩৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড নীলফামারীর ডালিয়া ডিভিশনের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী হাফিজুল হক বলেন,সেমাবার (১৪ আগস্ট) সকাল ৬টায় তা কমে বিপদসীমার ৩৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে কিছুটা আশায় বুখ বেধেছেন বানভাসী লোকজন। তবে তিস্তা ব্যারেজের ৪৪টি গেট খুলে রেখেও ভয় কাটছে না।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ খালেদ রহীম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘রবিবার বন্যা দুর্গত এলাকার মানুষের জন্য জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ দফতর থেকে ১৮০ মেট্রিক টন চাল ও নগদ ৭ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের বন্যা দুর্গতদের পুনরায় নতুনদের তালিকা প্রস্তত করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন,সরকারের পক্ষ থেকে ত্রাণ তৎপরতা অব্যাহত থাকবে। বর্তমানে জেলা প্রশাসক দুর্গত বন্যা এলাকায় পরিদর্শনে রয়েছেন। এছাড়াও ঢাকায় আরও ১০ লাখ টাকা ২২৫ মেট্রিক টন চাল ও ৫ হাজার কেজি শুকনা খাবারের চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে ।
/এসটি/
আরও পড়ুন: