সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বুধবার (২৩ আগস্ট) ২৫টি কোচ রেলওয়ে ট্রাফিক বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এসব কোচ ঈদের আগে ও পরে বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী আন্তঃনগর ট্রেন বহরে জুড়ে দেওয়া হবে। এ ছাড়াও পরিচালনা করা হবে দুটি বিশেষ ট্রেন। এই ট্রেন দুটি চলবে ঢাকা-পার্বতীপুর ও ঢাকা-খুলনা রুটে। অতিরিক্ত কোচগুলো এ মাসের ৩১ আগস্টের মধ্যে কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
ঈদে যানজট ও বাড়তি ভাড়া এড়াতে ট্রেনে যাত্রীদের চাপ বাড়ে। মানুষের ঈদাযাত্রার বাড়তি চাহিদার কথা চিন্তা করে ট্রেনের আসন সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে। যাত্রীচাপ সামলাতে অতিরিক্ত রেলকোচ মেরামত করা হচ্ছে। এজন্য পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের প্রতিটি আন্তঃনগর ট্রেনে বাড়ানো হচ্ছে কোচের সংখ্যা। এ ছাড়াও থাকছে দুটি বিশেষ ট্রেন। ফলে পশ্চিম রেলওয়ের ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত ৪০ হাজার যাত্রী ট্রেনে চলাচলের সুবিধা পাবেন।
সূত্র জানায়, গত ১৫ জুলাই থেকে কোচ মেরামতের কাজ শুরু হয়। যথাসময়ে কোচগুলো সরবরাহের লক্ষ্যে প্রতিদিন কারখানার শ্রমিকরা ৯ ঘণ্টা কাজ করার পরও অতিরিক্ত সময় কাজ করছেন। কারখানার শতকরা ৩৭ ভাগ জনবল ও পুরনো মেশিনপত্র দিয়ে অচল কোচগুলো সুসজ্জিত করে সচল করা হচ্ছে। এজন্য কারখানার চারটি শপে (উপ-কারখানা) চলছে ক্যারেজ,বগি, জেনারেল ওভারহোলিং ও ক্যারেজ হেভি রিপেয়ারিং এর কাজ।
কারখানার (রং বিভাগ) সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী আরিফুর রহমান বলেন, ‘প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় বেশি করে কোচ মেরামত সম্ভব হচ্ছে না। এ বিভাগে ২২১ জন শ্রমিক ছিল। বর্তমানে কাজ করছে মাত্র ৬৭ জন। আবার এদের মধ্যে চলতি বছরে অবসরে যাবেন আরও ৪ জন।’
কারখানার বিদ্যুৎ বিভাগের সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী শাহাজান আলী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সব সময় কারখানায় মেরামত কাজ হয়। তবে দুই ঈদে কাজের চাপ অনেকটাই বেড়ে যায়। ঈদকে সামনে রেখে শ্রমিক-কর্মচারী এমনকি কর্মকর্তারাও বাড়তি সময় দিয়ে থাকেন।’ তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘কাজের লোকতো বাড়ছে না, শুধুই দিন দিন কমছে। কিন্ত কাজের চাপ যথেষ্ট বাড়ছে। জনবল নিয়োগের বিষয়টি সরকারের দ্রুত দেখা দরকার।’
রেলওয়ে কারখানা সূত্র জানায়, যান্ত্রিক ও বৈদ্যুতিক বিভাগে তিন হাজার ১৭১ জন শ্রমিকের প্রয়োজন। কিন্ত সেখানে রয়েছে এক হাজার ২৬২ জন।
নির্ধারিত সময়ের আগে মেরামতকাজ সম্পন্ন করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কারখানার ২৯টি শপের শ্রমিক-কারিগর ও প্রকৌশলীরা। এসব কোচ মেরামত করতে রেলওয়ে সরঞ্জাম বিভাগের মজুদ মালামাল ও করাখানার তৈরি করা নিজস্ব সরঞ্জাম ব্যবহার করা হচ্ছে।
রেলওয়ে শ্রমিকলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক মোখছেদুল মোমিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘কাঁচামালের সীমাবদ্ধতা ও জনবল সংকট থাকলেও কাজ চলছে জোরেশোরে।’ সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার ওয়ার্কস ম্যানেজার আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘ঈদে ঘরমুঘো মানুষের ভোগান্তি কমাতে অতিরিক্ত কোচ মেরামত করা হচ্ছে। এতে প্রায় অতিরিক্ত ৪০ হাজার যাত্রীসেবা পাবে। মানুষের মধ্যে ট্রেনের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় পশ্চিম রেলওয়ের পক্ষ থেকে সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় প্রতি বছর দুই ঈদে অতিরিক্ত কোচ মেরামত করা হয়।’
কারখানার বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক মুহাম্মদ কুদরত-ই খুদা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এবার ঈদে কারখানা থেকে ৬৫টি কোচ মেরামতের উদ্যোগ নিয়েছি। ইতোমধ্যে ২৫টি কোচের মেরামত কাজ শেষের দিকে। বাকিগুলো নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মেরামত কাজ শেষ হবে।’
আরও পড়ুন- ঈদে ঢাকা-বরিশাল রুটে চলবে ৩০ নৌযান