‘পীরবাদ ও তরিকত তরিকায় বিশ্বাসী ছিলেন বলেই জঙ্গিরা তাকে হত্যা করে’

রংপুরে খাদেম হত্যা মামলার আসামিরারংপুরের কাউনিয়ায় মাজারের খাদেম ও আওয়ামী লীগ নেতা রহমত আলী হত্যা মামলায় ১২ নব্য জেএমবির বিচার শুরু হয়েছে। সরকারপক্ষে মামলা পরিচালনাকারী আইনজীবী বিশেষ পিপি রথিশ চন্দ্র জানান, মামলার বাদী আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে উল্লেখ করেছেন, তার বাবা রহমত আলী পীরবাদ এবং তরিকত তরিকায় বিশ্বাসী ছিলেন বলেই জামায়াত-শিবির ও জঙ্গিরা মিলে তাকে হত্যা করে।

রবিবার (২৭ আগস্ট) দুপুরে রংপুরের বিশেষ জজ নরেশ চন্দ্র সরকারের আদালতে মামলার বাদী নিহত রহমত আলীর বড় ছেলে শফিকুল ইসলামের সাক্ষ্য ও জেরা সম্পন্ন হয়েছে। আগামী ৬ সেপ্টেম্বর পরবর্তী সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করেছেন আদালত।

জবানবন্দিতে বাদী আরও জানান, ২০১৫ সালের ১০ নভেম্বর রাতে তার বাবা কাউনিয়া উপজেলার টেপামধূপুর বাজারে ওষুধের দোকান বন্ধ করে বাসায় ফেরার পথে সন্ত্রাসীরা তার পথ রোধ করে উপর্যুপরি কুপিয়ে হত্যা করে। এরপর তার গলাকেটে মৃত্যু নিশ্চিত করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

তিনি জানান, তার দাদা ওই এলাকার একজন পীর ছিলেন। সেই মাজার তার বাবা দেখাশোনা করতেন।

এর আগে কঠোর পুলিশি নিরাপত্তার মধ্য রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ৯ জঙ্গিকে রংপুর আদালতে আনা হয়। এরা হলো জঙ্গি মাসুদ রানা, এছাহাক আলী, লিটন মিয়া, আবু সাঈদ, সাখাওয়াত হোসেন, জাহাঙ্গীর হোসেন ওরফে রাজিব, সাদাত ওরফে রতন সরোয়ার, হোসেন ওরফে সাবু ও তৌফিকুল ইসলাম।

সরকারপক্ষের আইনজীবী রথিশ চন্দ্র ভৌমিক আদালতকে জানান, চাঞ্চল্যকর এ মামলায় ১৪ জেএমবির বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করে পুলিশ। এদের মধ্যে জঙ্গি বাইক হাসান ও সাদ্দাম হোসেন পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে। বাকি ১২ জনের মধ্যে ৯ জঙ্গি গ্রেফতারের পর থেকে কারাগারে আছে। এছাড়া তিন জঙ্গি এখনও পলাতক। এরা হলো চান্দু মিসয়া, রাজিবুল ইসলাম ওরফে বাদল ও বাবুল আখতার।

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ১০ নভেম্বর রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার টেপামধূপুর এলাকায় রাত ৯টার দিকে বাসায় ফেরার পথে স্থানীয় মাজারের খাদেম ও আওয়ামী লীগ নেতা রহমত আলীকে গলা কেটে করে হত্যা দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় নিহত রহমত আলীর ছেলে শফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে কাউনিয়া থানায় হত্যা মামলা করেন।

আরও পড়ুন:

নো-ম্যানস ল্যান্ডে রোহিঙ্গাদের কান্না