সোমবার (২ অক্টোবর) খাদ্য মন্ত্রণালয়ের এক বৈঠকে খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম চালের আমদানিকারক, মজুতদার, আড়তদার, খুচরা ও পাইকারী ব্যবসায়ীদের খাদ্য অধিদফতর থেকে লাইসেন্স গ্রহণের নির্দেশনা এবং প্রতি ১৫ দিন পর পর ব্যবসায়ীদের গুদামে মজুদ করা চাল ও গমের হিসাব স্থানীয় খাদ্য অধিদফতরকে অবহিত করতে নির্দেশ দিয়েছেন।
হিলি বাজারের চাল বিক্রেতা অনুপ কুমার বসাক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা অনেক আগে থেকেই ফুড অফিস থেকে এ ধরনের লাইসেন্স নিয়ে ব্যবসা করে আসছি। প্রতিবছর এ লাইসেন্স নবায়ন করা হয়। তবে বর্তমানে এরসঙ্গে বাড়তি হিসেবে ১৫ দিন পর পর মজুদের হিসেব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এটা আমাদের জন্য বাড়তি ঝামেলা। তারপরেও সরকার যখন নিয়ম করেছে আমাদের পালন করতেই হবে। তবে এক্ষেত্রে স্থানীয় খাদ্য অধিদফতরকেও সহযোগিতা করতে হবে।’
হিলি স্থলবন্দরের চাল আমদানিকারক ললিত কেশেরা বলেন, ‘সরকার চাল আমদানির ক্ষেত্রে ফুড লাইসেন্স করার কথা বলেছেন। এ সংক্রান্ত লাইসেন্স আমরা আগে থেকেই করে রাখছি। বন্দরের আরও কয়েকজনের এ ধরনের লাইসেন্স করা রয়েছে। তবে অনেক আমদানিকারকদের এ লাইসেন্স করা নাই।’
হাকিমপুর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. মিজানুর রহমান জানান, আগামী ৩০ অক্টোবরের মধ্যে চাল আমদানিকারক, মজুতদার, আড়তদার, খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ীদের খাদ্য শষ্য লাইসেন্স করতে হবে। আমরা দু’একদিনের মধ্যেই স্থানীয় বাজারগুলোতে এ বিষয়ে নোটিশ দেবো এবং মাইকিং করবো। এরপরেও যারা লাইসেন্স করবে না তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি জানান,হিলি স্থলবন্দরের দুইজন আমদানিকারকের ফুড লাইসেন্স করা রয়েছে। এছাড়া আর কোনও আমদানিকারকের এই লাইসেন্স করা নেই। তাদের অচিরেই এই লাইসেন্স করতে হবে।
মিজানুর রহমান আরও জানান, আমদানিকারক, খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা কী পরিমাণ পণ্য আমদানি করে রাখতে পারবেন, কতদিন রাখতে পারবেন, সেই সংক্রান্ত নির্দেশনা খাদ্য শষ্য লাইসেন্সে উল্লেখ রয়েছে। সেই নির্দেশনার আলোকে তাদের এই ফুড লাইসেন্স করতে হবে। একজন আমদানিকারক তার আমদানিকৃত পণ্য ৩০ দিন পর্যন্ত ধরে রাখতে পারবেন। ধান, গম চাল, সয়াবিন, পামওয়েল তেল, ডাল এবং চিনি এই সাতটি পণ্যের ক্ষেত্রে আমদানিকারক, খুচরা, পাইকারি বিক্রেতা, মজুতদার আড়তদার সবাইকে এই ফুড লাইসেন্স গ্রহণ করতে হবে।
আরও পড়ুন:
৩০ অক্টোবরের মধ্যে চাল ব্যবসায়ীদের লাইসেন্স নেওয়ার নির্দেশ খাদ্যমন্ত্রীর