নভেম্বরেই বড়পুকুরিয়া থেকে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে ২৭৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ: নসরুল হামিদ

নসরুল হামিদ (ফাইল ছবি)বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেছেন, ‘নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নতুন ২৭৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্রে উৎপাদন শুরু হবে। এর ফলে উত্তরাঞ্চলের বিদ্যুতের যে ঘাটতি তা পূরণ হবে।’ 

শুক্রবার (২৭ অক্টোবর) সকালে দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের একথা বলেন তিনি। মন্ত্রী বলেন, ‘এই প্রকল্পটি ২০১৫ সালে শুরু করা হয়েছিল। যা সম্পন্ন করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কথা ছিল ২০১৮ সালের জুলাই মাসের দিকে। কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ের অনেক আগেই এখান থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হবে। এখানে নিজস্ব কয়লা ব্যবহার করে খুব অল্প খরচে বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ভেড়ামারায় আরও ৫শ’ মেগাওয়াট ও সৈয়দপুরে দেড়শ’ মেগাওয়াট ক্ষমতার বিদ্যুৎকেন্দ্র করতে যাচ্ছে সরকার। যাতে করে এই অঞ্চলে কোনোভাবেই বিদ্যুতের ঘাটতি থাকবে না।’

এর আগে তিনি তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কর্মকর্তা, চীনা কর্মকর্তা ও প্রকল্প কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। দিনাজপুর-৬ আসনের সংসদ সদস্য শিবলী সাদিক, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান খালেদ মাহমুদ, প্রধান প্রকৌশলী আব্দুল হাকিম সরকার, প্রকল্প পরিচালক চৌধুরী নুরুজ্জামান, প্রকল্পের প্রধান পরামর্শক (চীফ কনসালটেন্ট) শান্তনু চৌধুরীসহ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের অন্যান্য কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন। 

২৭৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রধান পরামর্শক (চিফ কনসালটেন্ট) শান্তনু চৌধুরী বলেন, ‘বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের কাজ প্রায় শেষের দিকে। মোট ৩৩টি ধাপের মধ্যে প্রায় ২৭টি ধাপ সম্পন্ন করা হয়েছে। বাকি কাজও আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই সম্পন্ন হবে। আগামী ১৫ নভেম্বর থেকে নতুন এই প্রকল্পে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হবে। যাতে করে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে ২৭৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ।’ তিনি বলেন, নতুন প্রকল্পের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩০০ মেগাওয়াট। এই প্রকল্পটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে করে কোনোভাবেই ২৭৫ মেগাওয়াটের চেয়ে কম বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে না।

উল্লেখ্য, দিনাজপুরে কয়লাভিত্তিক ২৫০ মেগাওয়াট তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র ছিল। নতুন প্রকল্প থেকে আগামী নভেম্বরে ২৭৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হলে এখান থেকে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে ৫২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ।