নির্যাতনের শিকার নয়ন বর্তমানে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। শনিবার সন্ধ্যায় সর্বানন্দ ইউনিয়নের রামভদ্র (কদমতলা) এলাকায় সে নির্যাতনের শিকার হয়।
মামলার আসামিরা হলেন সাবেক ইউপি সদস্য জহুরুল ইসলাম, কবির হোসেন, আবদুল আজিজ ও রিপন চন্দ্র।
নূরজাহান বেগম মামলার এজাহারে উল্লেখ করেন, নয়নের বাবা নাই। সে প্রতিবেশী কবির হোসেনের মুরগির খামারে কাজ করতো। শনিবার (৪ নভেম্বর) সকালে কবির হোসেনের ঘর থেকে ১০ হাজার টাকা চুরি হয়। এ ঘটনায় নয়নকে আটকে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করেন কবির হোসেন। নয়ন টাকা চুরি করেনি বলে বারবার জানালেও কবির তাকে আটকে রাখে। সন্ধ্যার দিকে কবির হোসেন তার ভাই আবদুল আজিজ, সাবেক ইউপি সদস্য জহুরুল ইসলাম ও রিপন চন্দ্রকে সঙ্গে নিয়ে নয়নকে মুরগির খামারের পেছনে গাছের সঙ্গে রশি দিয়ে বাঁধেন। এরপর তারা নয়নকে বেদম মারধর এবং হাতের আঙুলে পিন ঢুকিয়ে নির্যাতন করেন।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, নির্যাতনের কারণে নয়ন গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে অভিযুক্তরা তাকে মাটিতে ফেলে রাখেন। সন্ধ্যা পেরিয়ে গেলেও নয়ন বাড়িতে না আসায় মা নূরজাহান মুরগির খামারে গিয়ে ছেলেকে মাটিতে পড়ে থাকতে দেখেন। পরে তিনি স্থানীয়দের সহায়তায় ছেলেকে উদ্ধার করে প্রথমে বাড়িতে নিয়ে যান। এরপর নয়নের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে হাসপাতালে নিতে চাইলে অভিযুক্তরা বাধা দেন। পরে পুলিশের সহায়তায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
নয়নের মা নূরজাহান বেওয়া জানান, পাঁচ-ছয় মাস ধরে নয়ন মাসে আড়াই হাজার টাকা মজুরিতে কবির হোসেনের মুরগির খামারে কাজ করতো। কবির হোসেনের টাকা চুরি হওয়ায় নয়নকে সন্দেহ করে নির্যাতন চালান। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতার করে শাস্তির দাবি জানান তিনি।
খবর পেয়ে রবিবার সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম গোলাম কিবরিয়া শিশু নয়নকে হাসপাতালে দেখতে যান। এ সময় তিনি নয়নের চিকিৎসার খোঁজ-খবরসহ তার মাকে সুষ্ঠু বিচারের আশ্বাস দেন।
আরও পড়ুন:
সাঁওতাল পল্লিতে হামলার চিহ্ন মুছে গেলেও শুকায়নি মনের ক্ষত