মেয়র পদে যাদের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে তারা হলেন- স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী গোলাম মোহাম্মদ আব্দুল মজিদ বীর প্রতীক, নারী মেয়র প্রার্থী সুইটি আঞ্জুম, মেহেদী হাসান বনি, শাকিল রায়হান, বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী নাজমুল আলম নাজু ও রংপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র আব্দুর রউফ মানিক।
অন্যদিকে যে সাত জন মেয়র প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে তারা হলেন- আওয়ামী লীগ মনোনিত মেয়র প্রার্থী সরফ উদ্দিন আহাম্মেদ ঝন্টু, বিএনপি প্রার্থী কাওছার জামান বাবলা, জাতীয় পার্টির প্রার্থী মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা, জাতীয় পার্টির বিদ্রোহী প্রার্থী জাপা চেয়ারম্যান এরশাদের ভাতিজা আসিফ শাহারিয়ার, এলডিপির প্রার্থী সেলিম আখতার, বাসদের আব্দুল কুদ্দুস ইসলামী শাসন তন্ত্র আন্দোলনের প্রার্থী এটিএম গোলাম মোস্তফা। এ ছাড়া সাধারণ কাউন্সিলর পদে ২১৮ জন ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ৬৩ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
এদিকে সকাল থেকে নগর জুড়ে গুজব ছিল, ঋণ খেলাপি হিসেবে বিএনপি প্রার্থী বাবলার মনোনয়নপত্র বাতিল হতে যাচ্ছে। আজ দুপুর ২টার পর পরেই মেয়র পদে দাখিল করা মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শুরু হয়। এ সময় বিএনপির মেয়র প্রার্থী বাবলা দুজন আইনজীবী নিয়ে সভাকক্ষে উপস্থিত হন।
মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের জন্য ব্যাংকের এক কর্মকর্তা আপত্তি উত্থাপন করে বলেন, বাবলা ঋণ খেলাপি, তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হোক। এ সময় বাবলার আইনজীবী তরিকুল ইসলাম কাগজ প্রদর্শন করে বলেন, হাইকোর্ট ছয় মাসের জন্য এ সব ব্যাপারে স্থগিতাদেশ দিয়েছেন। তখন ব্যাংকের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, তারা হাইকোর্টের ওই আদেশ স্থগিত করার আবেদন করেছেন এবং আদালত এ বিষয়ে স্থগিতাদেশ দিয়েছেন। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দাখিল করার জন্য বিকাল ৫টা পর্যন্ত সময় চান ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। কিন্তু ৫টার মধ্যে আদালাতের কোনও আদেশ নামা দেখাতে না পারায় রিটার্নিং অফিসার বিএনপি প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেন।
এরপরই বিএনপি প্রার্থী নির্বাচন কার্যালয় থেকে বের হয়ে সাংবাদিকদের জানান, তার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
এ সব বিষয়ে সাংবাদিকরা রিটার্নিং অফিসার সুভাষ চন্দ্র সরকারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিএনপি প্রার্থী ৬ মাসের একটি স্থগিতাদেশের কপি জমা দিয়েছেন। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, তারা ওই আদেশ স্থগিত করার আবেদন করেছে এবং তা মঞ্জুর হয়েছে। কিন্তু ৫টার মধ্যে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ কাগজ দেখাতে না পারায় তার মনোনয়নপত্র বৈধ বলে ঘোষণা করা হয়েছে। তবে এখনও ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ইচ্ছে করলে ৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত এ আদেশের বিরুদ্ধে বিভাগীয় কমিশনারের কাছে আপিল দায়ের করতে পারবে।