সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার ছয় সাংবাদিক

পঞ্চগড়সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলা ও লাঞ্ছিত হয়েছেন পঞ্চগড় জেলার ছয় সাংবাদিক। সোমবার (২৭ নভেম্বর) দুপুরে জেলার দেবীগঞ্জ উপজেলার পৌরসভা কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। দেবীগঞ্জ উপজেলা যুবলীগের কয়েকজন নেতা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, কাউন্সিলর, আওয়ামী লীগ নেতা ও সাংবাদিকদের অবরুদ্ধ করে রাখে। খবর পেয়ে দেবীগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে।

জানা গেছে, জেলার দেবীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাসনাৎ জামান চৌধুরী জজ রবিবার সন্ধ্যায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফিরুজুল ইসলামের বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের কাছে বিভিন্ন অভিযোগ করেন। এ বিষয়ে জানার জন্য সোমবার (২৭ নভেম্বর) দুপুরে বাংলা ট্রিবিউনের জেলা প্রতিনিধি সাংবাদিক সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদ, আরটিভির সাংবাদিক রাজিউর রহমান রাজু, মানবজমিনের সাংবাদিক সাবিবুর রহমান সাবিব, বাংলাদেশ প্রতিদিন ও নিউজ ২৪ এর সাংবাদিক সরকার হায়দার, ডিবিসির মো. লুৎফর রহমান, ৭১ টিভির মো. রফিকুল ইসলাম দেবীগঞ্জ যান। তারা দুপুরে পৌরসভা কার্যালয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক, কাউন্সিলর, আওয়ামী লীগ নেতাদের কাছে অভিযোগের বিষয়ে সংবাদ সংগ্রহ করছিলেন। সংবাদ সংগ্রহের সময় আওয়ামী লীগ নেতা গিয়াসউদ্দিন চৌধুরী, আবু বক্কর সিদ্দিক আবু, যুবলীগের সভাপতি সংগ্রাম প্রধান এবং ছয় জন কাউন্সিলর উপস্থিত ছিলেন। এ সময় আকস্মিকভাবে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান হাসনাৎ জামান চৌধুরী জজের অনুসারী যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক রাজু আহমেদ মিঠু, সামিনুর রহমান শাওন, যুবলীগ নেতা আয়নাল হকসহ যুবলীগ, ছাত্রলীগের ২০/২৫ জন নেতাকর্মী সাংবাদিকদের গালাগালি শুরু করে। তারা চিৎকার করে বলতে থাকে- ‘যারা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে নিউজ করতে এসেছেন বের হন।’ একপর্যায়ে সংবাদ সংগ্রহ করতে আসা সাংবাদিকদের ডেকে ও টেনে নামানোর চেষ্টা করে তারা। এ সময় আওয়ামীলীগ নেতা ও পৌর কাউন্সিলর আকসাদুল ইসলাম বাধা দিলে তাকে মারধর করা হয়। তারা সাংবাদিক সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদকে ধাক্কাধাক্কি করে। এ সময় সাংবাদিকরা দৌড়ে পৌর কার্যালয়ের ভেতরে গেলে তারা সবাইকে দুই ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখে।

দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফিরুজুল ইসলাম ও সাংবাদিকরা বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে জেলা প্রশাসক অমল কৃষ্ণ মণ্ডল, পুলিশ সুপার মো. গিয়াসউদ্দিন আহাম্মেদ ও দেবীগঞ্জ থানায় মোবাইলে অবহিত করলে দেবীগঞ্জ থানার ওসি মো. আমিনুল ইসলাম পুলিশ ফোর্স নিয়ে ইউএনও, কাউন্সিলর ও সাংবাদিকদের উদ্ধার করেন।

এদিকে, পৌর কাউন্সিলর ও পরিবহন শ্রমিক নেতা আকসাদুলকে মারধরের প্রতিবাদে দেবীগঞ্জের করতোয়া নদীর টোল প্লাজা এলাকায় সড়ক অবরোধ করে স্থানীয় শ্রমিকরা। শ্রমিকরা বিকালে অবরোধ শুরু করলে এক ঘণ্টা পর পুলিশ এসে সড়ক অবরোধ তুলে দেয়।

দেবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিনুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি।

দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফিরুজুল ইসলাম বলেন, ‘সাংবাদিকরা পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে পৌর কার্যালয়ে অবস্থান করছিলেন। এ সময় যুবলীগের নেতারা ঘটনাস্থলে এসে সাংবাদিকদের গালাগালি ও লাঞ্ছিত করে। ওসিকে মোবাইল করা হয়। পরে পুলিশ আমাদের উদ্ধার করে। বিষয়টি আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।’