সোমবার রাতে পাটগ্রাম থানায় সওজের ঢাকা অঞ্চলের ‘স্টেট অ্যান্ড ল’ বিভাগে কর্মরত সার্ভেয়ার সাইফুল ইসলাম বাদী হয়ে দণ্ডবিধি ৩৩২ ও ৩৫৩ ধারায় মামলা দায়ের করেন।
মামলার অপর আসামিরা হলেন-উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের সভাপতি রাশেদুল ইসলাম, তার ভাই ওয়াজেদুল ইসলাম, জাহেদুল ইসলাম ও সাদেকুল ইসলাম। তারা পাটগ্রাম কলেজ মোড় এলাকার মৃত আব্দুল জব্বারের ছেলে।
মামলার বিবরণের বরাত দিয়ে পাটগ্রাম থানা পুলিশ জানায়, সোমবার বিকালে সওজের রংপুর জোনের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা ঢাকা বিভাগে কর্মরত সওজের ‘স্টেট অ্যান্ড ল’ কর্মকর্তা (উপসচিব) মাহবুবুর রহমান, পাটগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নূর কুতুবুল আলম, সওজের লালমনিরহাট নির্বাহী প্রকৌশলী সাজেদুর রহমান, সহকারী পুলিশ (বি-সার্কেল) সুপার হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও পাটগ্রাম পৌরসভার মেয়র শমসের আলীর উপস্থিতিতে পাটগ্রাম বাইপাস সড়কের দুই পাশে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছিল। একপর্যায়ে সরকারি কাজে বাধা সৃষ্টি করে সওজের সার্ভেয়ার সাইফুল ইসলামের ওপর অতির্কিত হামলা চালিয়ে সাদেকুল ইসলামসহ অন্যরা পালিয়ে যায়।
পাটগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নূর কুতুবুল আলম বলেন, ‘বিষয়টি দুঃখজনক। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে।’
সওজের লালমনিরহাট নির্বাহী প্রকৌশলী সাজেদুর রহমান বলেন, ‘সোমবার জেলার পাটগ্রাম উপজেলার আন্তঃজেলা মোড় হতে পাটগ্রাম সরকারি কলেজ গেট পর্যন্ত বাইপাস সড়কের দুই পাশে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদকালে রাশেদুল ইসলাম ও সাদেকুল ইসলাম নামে দুই ব্যক্তিসহ কয়েকজন যুবক হামলা চালায়। এতে কয়েকজন আহত হন। এ ঘটনায় পাটগ্রাম থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।’
জানতে চাইলে মামলার বাদী সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘পুলিশের উপস্থিতিতে আমার ওপর হামলা করা হয়েছে। এই ঘটনায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে মামলা করা হয়েছে। এ বিষয়ে আমার কিছু বলার নেই।’
পাটগ্রাম থানার ওসি অবনি শংকর কর বলেন, ‘আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।’
পাটগ্রাম উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের সভাপতি রাশেদুল ইসলাম বলেন, ‘অনেকের বাড়িঘর ভেঙে দিয়েছে সওজের লোকজন। আমি জানি না সেখানে কারা কাকে হামলা করেছে। অথচ হয়রানি করার জন্য একটি পক্ষ ষড়যন্ত্রমূলক আমাকে ও আমার তিন ভাইয়ের নামে মিথ্যা মামলা করেছে। বিষয়টি আইনগতভাবে মোকাবিলা করা হবে।’