রসিক নির্বাচনে জামায়াত জটিলতায় বিএনপি

বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী
জামায়াতে ইসলামীকে না রাখায় রংপুর সিটি করপোরেশন (রসিক)নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী কাওছার জামান বাবলার পক্ষে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি ঘোষণা করতে পারেনি বিএনপি। সোমবার রাতেই এ কমিটি ঘোষণার জন্য কর্মীসভার আয়োজন করা হলেও বিএনপির রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলুর বিরোধিতায় তা স্থগিত করা হয়েছে। এ নিয়ে দলীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে মতবিরোধ তৈরি হয়েছে। পরে অবশ্য জামায়াতকে নিয়েই নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়।মহানগর ও জেলা বিএনপির একাধিক নেতা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।  

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, রসিক নির্বাচনে প্রার্থীদের মধ্যে দলীয় প্রতীক বরাদ্দ করার পর রাত ৮ টার দিকে নগরীর গুপ্তপাড়া মহল্লায় অবস্থিত সুমি কমিউনিটি সেন্টারে জেলা ও মহানগর বিএনপির যৌথ কর্মীসভা অনুষ্ঠিত হয়।সেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সাবেক উপমন্ত্রী অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু।উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সভাপতি সাইফুল ইসলাম,মহানগর বিএনপির সভাপতি মোজাফফর হোসেন, সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম মিজু,মহিলা দলের সভাপতি শাহিদা বেগম জোসনা,বিএনপি নেতা লাকু,পীরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা নূর মোহাম্মদ মণ্ডলসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।

সভায় প্রধান অতিথি আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, ‘আজকের সভা থেকে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটি ঘোষণা করার দরকার নেই। আমি তাদের নিষেধ করেছি। কারণ নির্বাচন পরিচালনা কমিটিতে জামায়াতকে রাখা হয়নি। এতে তারা মাইন্ড করতে পারে। পরে ডাকলে তারা নাও আসতে পারে। ওরা বলতে পারে তাদের আগে বলা হয়নি। সে কারণে জামায়াতকে কমিটিতে রাখতেই হবে।’ কমিটিতে তাদের যুগ্ম আহ্ববায়ক হিসেবে তাদের এক বড় নেতাকে রাখার কথাও তিনি বলেন। এছাড়া ২০ দলীয় জোটের শরীক জাগপাসহ আর যে দু’একটি দল আছে তাদেরও সঙ্গে রাখার পক্ষে মত দেন। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে নির্বাচন করতে পরামর্শ দেন তিনি।

দুলু সভায় বলেন, ‘জামায়াতকে না রাখলে বিএনপির মেয়র প্রার্থীর ক্ষতি হবে। তাদের ভোট আছে। হয়তো তারা নৌকা মার্কায় ভোট দেবে না, তার পরেও তাদের সঙ্গে রাখা প্রয়োজন।’ এ সময় মঞ্চে উপস্থিত জেলা ও মহানগর বিএনপির নেতারা কোনও কথা বলেননি। পরে জামায়াতের সঙ্গে কথা বলে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সভায় দুলু আরও বলেন, ‘বিএনপি মেয়র প্রার্থী বাবলা সাহেব শিল্পপতি মানুষ। তার অনেক টাকা পয়সা আছে। কিন্তু তাকে সব সময় হাসিখুশি থাকতে হবে। ভোটারদের কাছে যাওয়ার সময় হাসিমুখে কথা বলতে হবে।’

সোমবার রাতের মধ্যেই সব সাব-কমিটি গঠন করে ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন করার কথা বলেন দুলু। এ জন্য আর দেরি করা যাবে না বলেও মত দেন তিনি।

বিএনপি নেতা দুলু বলেন, ‘আমাদের মেয়র প্রার্থী বাবলা সাহেবসহ বিএনপি নেতারা গণসংযোগ আর সমাবেশে বক্তৃতা করার সময় আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেবেন। পাশাপাশি জাতীয় পার্টির বিরুদ্ধে কথা বলতে হবে। কারণ জাতীয় পার্টি ৫ জানুয়ারির ভোটারবিহীন নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে সহায়তা না করলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতো। সে কারণে এরশাদের বিরোধিতা করে বক্তৃতা করতে হবে।’ রংপুরের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘এখানে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির আলাদা প্রার্থী আছে। রংপুরের প্রেক্ষাপট আলাদা। তবে ওরা একই গোত্রের। শেষ পর্যন্ত তারা কী করে সেটা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।’

দুলু আরও বলেন, ‘বিএনপি প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণায় অংশ নিতে অনেক সাবেক মন্ত্রীসহ শীর্ষ নেতারা রংপুরে আসবেন। একইভাবে রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলা-মহানগরের মেয়ররাও নির্বাচনে প্রচারণায় অংশ নিতে আসবেন। আওয়ামী লীগের অনেক নেতাই আসতে পারবেন না। কিন্তু আমাদের সেই অসুবিধা নেই।’

এ ব্যাপারে জেলা বিএনপির সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘মহানগর বিএনপির সভাপতি মোজাফফর হোসেনকে প্রধান করে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি করা হয়েছে। তবে ২/১ দিনের মধ্যে সব কমিটি গঠন করা সম্ভব হবে।’ জামায়াতকে কমিটিতে না রাখায় বিএনপি নেতা দুলুর বিরোধিতার বিষয়টি এড়িয়ে যান তিনি।

আরও পড়ুন- প্রচারণার শুরুতেই পাল্টাপাল্টি অভিযোগ মেয়র প্রার্থীদের