কৃষি জমি দখল করে ইট ভাটা নির্মাণের অভিযোগ

 

কৃষি জমি দখল করে ইট ভাটা নির্মাণের অভিযোগগাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম শিবরাম গ্রামে কৃষি জমি দখল করে এম, ডি, বি ব্রিক্সস নামে একটি ইট ভাটা নির্মাণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত শুক্রবার (৮ ডিসেম্বর) থেকে ভাটায় ইট পোড়ানোর কাজও শুরু হয়েছে। আবাদি জমি ও বসতবাড়ি ঘেঁষে ইট ভাটা হওয়ায় হুমকির মুখে পড়েছে পরিবেশ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ইট ভাটাটির মালিক এমদাদুল হক। তিনি প্রভাব খাটিয়ে নামমাত্র কিছু জমি দেখিয়ে (মের্সাস মায়ের দোয়া ব্রিক্সসফিল্ড, এম, ডি, বি,) ইট ভাটা তৈরির জন্য প্রাথমিকভাবে পরিবেশ অধিদফতরের অনুমোদন নেয়। এরপর আশপাশের জমি মালিকদের ভয়ভীতি দেখিয়ে জমিগুলো দখলে নিয়ে ভাটা নির্মাণ করেন।

ভাটা সংলগ্ন হাফিজার রহমান, রফিকুল ইসলাম, মতিয়ার খাঁন, আবু রায়হান, শাহ আলম ও আবদুল জলিলসহ বেশ কয়েকজন জমি মালিক অভিযোগ করেছেন, জমি দিতে হুমকি দিচ্ছেন এমদাদুল হক ও তার ভাইয়েরা। ইট ভাটার নির্মাণ সামগ্রী ও মাটি চাপার কারণে কয়েক বিঘা জমির পাকা আমন ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। 

কৃষি জমি দখল করে ইট ভাটা নির্মাণের অভিযোগজমি মালিক হাফিজার রহমান বলেন, ‘গ্রামের অধিকাংশ মানুষ দরিদ্র। একমাত্র কৃষি জমির ওপর নির্ভরশীল তাদের পরিবার। প্রভাবশালী ভাটা মালিক তাদের সঙ্গে সমঝোতা না করেই ইট ভাটা নির্মাণ করেন। ইতোমধ্যে অনেকের জমি কোন সমঝোতা ছাড়াই দখলে নিয়েছেন। এছাড়া তাদের জমিও দখলে নিতে হুমকি-ধামকি দিচ্ছেন। বাধ্য হয়ে জমি রক্ষাসহ জনজীবন বাঁচাতে সংশ্লিষ্ট দফতরে লিখিত অভিযোগ করেছেন।’

আরেক জমি মালিক মতিয়ার খাঁন বলেন, ‘তার জমি এখন ইট ভাটার মাঝখানে। জমি দখলে নিতে ভাটা মালিক ও তার লোকজন তাদের জমিতে নামতে দিচ্ছেন না।’

জমি মালিক ফুল মিয়া, মোজাম্মেল, সাচ্চু ও আবুল কাফি বলেন, ‘সামান্য কৃষি জমিতে চাষাবাদ করেই তাদের জীবিকা চলে। ইট ভাটা নির্মাণ হওয়ায় তাদের জমিতে চাষাবাদ হুমকির মুখে।’

কৃষি জমি দখল করে ইট ভাটা নির্মাণের অভিযোগতাদের অভিযোগ, লিখিত অভিযোগের পর তদন্তে প্রমাণ পাওয়ার পরও ভাটা মালিকদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেয়নি প্রশাসন। বরং ভাটায় ইট পোড়ানো শুরু করেছে ভাটা মালিক।

সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এস, এম. গোলাম কিবরিয়া বলেন, ‘লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে সরেজমিনে তদন্ত, উভয় পক্ষ ও স্থানীয়দের বক্তব্যে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট দফতরে পাঠানো হয়েছে।’ 

গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক গৌতম চন্দ্র পাল বলেন, ‘অভিযোগের বিষয়টি তদন্তসহ উভয় পক্ষকে নিয়ে শুনানি হয়েছে। আরও তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ভাটা মালিক এমদাদুল হক বলেন, ‘তার মায়ের জমির ওপর ভাটা নির্মাণ হয়েছে। তাছাড়া জমি মালিকদের সঙ্গে কথা ও চুক্তি করেই জমি নেওয়া হয়েছে। কাউকে হুমকি ও জোর করে জমি দখলের অভিযোগ মিথ্যা।’ 

আরও পড়তে পারেন:  ‘বাড়াবাড়ি করলে আরেকটি লাশ পড়বে’