মঙ্গলবার (১৯ ডিসেম্বর) দিনভর রংপুর নগরীর শাপলা চত্বর, কাছারী বাজার, পায়রা চত্বর, বেতপট্টিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে জনসংযোগ করেন আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী সরফ উদ্দিন আহাম্মেদ ঝন্টু। সকাল ১০টায় নগরীর বেতপট্টি এলাকায় অবস্থিত আওয়ামী লীগের মহানগর কার্যালয় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ দিনের প্রচারণা শুরু করেন তিনি। এ সময় ঝন্টুর সঙ্গে ছিলেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, মহানগর সভাপতি শাফিয়ার রহমান, সাধারণ সম্পাদক তুষার কান্তি মণ্ডল, জেলা সভাপতি মমতাজ উদ্দিন আহাম্মেদ, সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রাজুসহ বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতারা। দলের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীও তাদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন।
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ঝন্টু বলেন, ‘নির্বাচনের পরিবেশ খুবই ভালো। ভোটাররা উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দেবেন। তারা উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষা করার স্বার্থে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আমাকে বিপুল ভোটে নির্বাচিত করবেন বলেই আমার বিশ্বাস। গত ১৫ দিন ধরে নগরীর প্রতিটি এলাকায় জনসংযোগ করে ভোটারদের মাঝে যে অভূতপূর্ব সাড়া দেখেছি তাতে করে জয়ের ব্যাপারে আমার মধ্যে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই।’
নির্বাচন আচরণবিধি বার বার লঙ্ঘনের জন্য তিন দফা জরিমানা ও এক দফা কারণ দর্শানোর যে নোটিশ রিটার্নিং অফিসার দিয়েছে সে ব্যাপারে জানতে চাইলে ঝন্টু বলেন, ‘নগরীর টাউন হলে যুবলীগের প্রতিনিধি সভার জন্য আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগ তুলে রবিবার আমাকে কারণ দর্শানোর যে নোটিশ দেওয়া হয়েছে তা ঠিক হয়নি। কারণ ওই সভা সম্পর্কে আমি কিছুই জানি না। ওই সভায় আমি যাইনি। ফলে দলের প্রতিনিধি সভায় আমাকে জড়ানো ঠিক না।’
তিনি পাল্টা অভিযোগ করেন, ‘জাতীয় পার্টির এক মন্ত্রী পতাকা উড়িয়ে নগরীতে ঘুরে বেড়াচ্ছেন, নির্বাচনি প্রচারণা চালাচ্ছেন, এমনকি দলের চেয়ারম্যান এরশাদ নিজেই রংপুরে এসে আচরণবিধি ভঙ্গ করে দলীয় প্রার্থী মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফার পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছেন। তবুও তাদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।’
নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি কোনও নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি দেই না। নগরবাসী জানে আমি আগে কী কী উন্নয়ন করেছি। আগামীতেও নির্বাচিত হলে নগরীর সব সমস্যা সমাধানে কাজ করে যাবো। জয়ের ব্যাপারে আমি শতভাগ আশাবাদী।’
এদিকে ঢাকা থেকে আসা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন যে কাউকেই ছাড় দিচ্ছে না তার প্রমাণ তো আমাদের প্রার্থীকে বার বার জরিমানা আর কারণ দর্শানোর নোটিশের মধ্যেই পেয়েছি। এতেই আবারও প্রমাণিত হয়েছে আমরা কোনও প্রভাব খাটাচ্ছি না। তবে আমাদের প্রার্থীকে বার বার জরিমানা করা হচ্ছে এটাও ঠিক না। কারণ আমরা কোনও আচরণবিধি লঙ্ঘন করছি না।’
আওয়ামী লীগ তাদের প্রার্থীর জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী বলেও জানান তিনি। এক প্রশ্নের উত্তরে আহমদ হোসেন বলেন, ‘বিএনপি প্রার্থী আগে থেকে তৈরি করে রাখা পুরাতন বুলি আওড়িয়ে, আচরণবিধি লঙ্ঘন, নির্বাচন সুষ্ঠু না হওয়ার বিষয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করে নির্বাচনকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে। তবে নগরবাসীর সঙ্গে কথা বলে দেখেন, ভোটাররা কোনও আশঙ্কা করছেন না। শুধু বিএনপিই আশঙ্কা করছে। এতেই বোঝা যায় তারা জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।’
আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, সেচ্ছাসেবক লীগসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা দিনভর নগরীর বিভিন্ন পাড়া-মহল্লাসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে লিফলেট বিতরণ করে ভোট প্রার্থনা করেন।