এমপি গোলাম মোস্তফা আহমেদের দাফন সম্পন্ন

এমপি গোলাম মোস্তফা আহমেদের তৃতীয় জানাজা

গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য এমপি গোলাম মোস্তফা আহমেদের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। মঙ্গলবার পৌনে ৭টার দিকে গাইবান্ধা সুন্দরগঞ্জ উপজেলার চন্ডিপুর ইউনিয়নের চন্ডিপুর গ্রামে নিজ বাড়ির উঠানে তার লাশ দাফন করা হয়েছে। 

এর আগে, বাদ মাগরিব বাড়ির পাশে পাঁচপীর বাজারের ডাকবাংলো সংলগ্ন চন্ডিপুর ফুটবল খেলার মাঠে তার তৃতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় ইমামতি করেন এমপি গোলাম মোস্তফার ভাগিনা হাফেজ মাওলানা মো. মাজহারুল হান্নান। গোলাম মোস্তফা আহমেদের জানাজায় অংশ নিতে বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা মানুষের ঢল নামে পাঁচপীর বাজারে। জানাজায় সুন্দরগঞ্জ উপজেলার সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও  দলীয় নেতাকর্মী ছাড়াও সুন্দরগঞ্জ উপজেলার সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেয়।

জানাজার আগে গোলাম মোস্তফা আহমেদর মরদেহ চন্ডিপুর ফুটবল খেলার মাঠে রাখা হয়। তাকে এক নজরে দেখার জন্য সেখানে দলীয় নেতাকর্মী আর সাধারণ মানুষ ভিড় করে। এসময় দলীয় নেতাকর্মী ছাড়াও বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে কফিনে ফুল দিয়ে শেষ শ্রদ্ধা জানানো হয়।

এরআগে, দুপুর ২.৪০ মিনিটে গোলাম মোস্তফার লাশ একটি হেলিকাপ্টারে করে গাইবান্ধা শহরের শাহ আবদুল হামিদ স্টোডিয়াম মাঠে আনা হয়। পরে গাইবান্ধা শহরের কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

জানাজা শেষে গোলাম মোস্তফা আহমেদের লাশের সঙ্গে তার নিজ বাড়িতে আসেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বী, গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ, গাইবান্ধা পৌর মেয়র অ্যাডভোকেট শাহ মাসুদ জাহাঙ্গীর কবীর মিলন ছাড়াও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। এছাড়া এসময় গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক গৌতম চন্দ্র পাল, পুলিশ সুপার মাশরুকুর রহমান খালেদ, সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস এম গোলাম কিবরিয়াসহ সরকারি কর্মকর্তা ও দলীয় নেতাকর্মীরা গোলাম মোস্তফা আহম্মেদের পরিবারের লোকজন সঙ্গে দেখা করে খোঁজখবর নিয়ে সমবেদনা জানান।

উল্লেখ্য- গোলাম মোস্তফা আহমেদ ১৯৫১ সালে চন্ডিপুর (ফারাজিপাড়া) গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। তার বাবা মৃত আবদুর রহিম ছিলেন একজন প্রান্তিক কৃষক। ছাত্র জীবন থেকে তিনি ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয় থাকার পাশাপাশি পেশায় তিনি একজন শিক্ষক ছিলেন। তিনি দীর্ঘদিন চন্ডিপুর এটিএন উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১১ সালে তিনি অবসর গ্রহণ করেন। এছাড়া ১৯৮৩ সাল থেকে আজ পর্যন্ত তিনি সুনামের সঙ্গে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ২০১১ সালে তিনি চন্ডিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম লিটনকে গুলি করে হত্যা করা হলে আসনটি শুন্য হয়। পরে চলতি বছরের ২২ মার্চ এ আসনে উপ-নির্বাচন করে তিনি আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন। গত ২২ এপ্রিল জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন আকতার তাকে শপথ বাক্য পাঠ করান।

গোলাম মোস্তফা আহমেদ স্ত্রী, এক ছেলে ও দুই মেয়েসহ নাতী-নাতনী রেখে গেছেন। তার একমাত্র ছেলে মেহেদী মোস্তফা মাসুম চন্ডিপুর এটিএন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। তার দুই মেয়েও শিক্ষকতায় আছেন। 

আরও পড়ুন: এমপি গোলাম মোস্তফার দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত