সাঘাটা উপজেলার ঘুড়িদহ ইউনিয়নের ঝাঁড়াবর্ষা গ্রামে বাস করেন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী আবদুস সোবহান মিয়া (৫৬), তার মেয়ে সুমি আকতার (২৫), ছেলে বিদ্যুৎ মিয়া (১৯) ও তফু মিয়া (১৬)।
সোবহান মিয়া জানান, তার তিন সন্তান জন্ম থেকেই বাক প্রতিবন্ধী। সুমি নিজের নাম পরিচয় লিখতে পারে।
সোবহান মিয়ার স্ত্রী আবেদা বেগম বলেন, ‘স্বামীর নিজের জায়গা-জমি না থাকায় বাবার বাড়ি এলাকায় সরকারি খাস জায়গায় দু’চালা দুটি টিনের ঘরে স্বামী-সন্তান নিয়ে থাকেন। মাঝে-মাঝে স্বামী কৃষি কাজ করলেও শারীরিক দুর্বলতার কারণে প্রায় অসুস্থ হয়ে পড়েন। বসবাসের ঘর দুটিও নড়বড়ে আর জরাজীর্ন হয়ে পড়েছে। উপযুক্ত বয়স হলেও অভাব-অনটনের কারণে মেয়েকে বিয়ে দিতে পারছেন না।’
আবেদা বেগমের অভিযোগ দুই বছর আগে শুধু মেয়ের নামে প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড হলেও এখন পর্যন্ত মেলেনি স্বামী ও দুই ছেলের কার্ড। খেয়ে না খেয়ে শত কষ্টে দিন কাটলেও কপালে সরকারি সহায়তা তো দূরের কথা কোনও খোঁজখবরও নেয় না কেউ।
ঘুড়িদহ ইউনিয়নের ঝাড়াবর্ষা গ্রামের ইউপি সদস্য সুধান্ন সরকার বলেন, ‘একই পরিবারের চার প্রতিবন্ধীর মধ্যে সুমি আকতারের প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড হয়েছে। ইতোমধ্যে সুমি ভাতার টাকাও উত্তোলন করছে। এছাড়া আবদুস সোবহান ও তার দুই ছেলের প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড করার প্রক্রিয়া চলছে।’
গাইবান্ধা সমাজসেবা অধিদফতরের উপ-পরিচালক মো. এমদাদুল হক প্রামাণিক বলেন, ‘‘একই পরিবারের বাবা ছেলে ও এক মেয়ে প্রতিবন্ধী হওয়ার বিষয়টি তিনি অবগত আছেন। বাক প্রতিবন্ধী সুমির নামে প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড হয়েছে। এছাড়া বাকি তিনজনের নামের তালিকা হয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যেই তাদের নামেও ভাতার কার্ড দেওয়া হবে।’ এছাড়া পরিবারটিকে আরও সহযোগিতার চেষ্টা করবেন তিনি।